ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে এখন ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করার হাতছানি এখন বাংলাদেশের সামনে। ব্যাটিং, বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করেছে ফিল সিমন্সের বাংলাদেশ।প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাইয়ের এমন সম্ভাবনা যখন বাংলাদেশের সামনে, তখন স্বাভাবিকভাবেই কৌশল নিয়ে কৌতূহল জেগেছে অনেকের। তবে সিমন্স তা খোলাসা করেননি।
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ২০ উইকেটের ১৪টিই তুলে নিয়েছেন পেসাররা। যার মধ্যে হাসান মাহমুদ একাই নিয়েছেন ৯ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী পেয়েছেন ৩ ও ২ উইকেট। ১১১ রানে ৯ উইকেট নিয়ে টেস্টে এক ম্যাচে সেরা বোলিং করেছেন হাসান। পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। এবার শরীফুল ইসলাম ফিট হয়ে ওঠায় পেস বোলিং বিভাগটা আরও একটু সমৃদ্ধ হয়েছে।
শরীফুলকে যদি খেলানো হয়, তাহলে বাংলাদেশের একাদশে পরশু দেখা যাবে চার পেসার। ম্যাকাইতে আজ সাংবাদিকেরা এ ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন সিমন্সের কাছে। সংবাদমাধ্যমকে বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন, ‘এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। আমরা কালকেই সিদ্ধান্ত নেব। শরীফুলের কারণে আলাদা অপশন তো তৈরি হয়েছে। তবে কথা হচ্ছে আমরা মাত্রই একটা টেস্ট জিতেছি। তাই জয়ী দলের একাদশ পরিবর্তন করা খুব একটা পছন্দ করি না। সুযোগ যেহেতু আছে, আগামীকাল আমরা তাই একসঙ্গে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না।’
২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর ২৬ বছরে বাংলাদেশ খেলেছে ১৬০ টেস্ট। জিতেছে ২৮ টেস্ট। যার মধ্যে ঘরের মাঠে ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে জিতেছে ১৮ ম্যাচ। দেশের বাইরে বাংলাদেশ পেয়েছে ১০ টেস্ট। যার মধ্যে ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে জয়, ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে তাদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই, সদ্য ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারানো—এগুলো বিদেশের মাঠে টেস্টে বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক কিছু জয়।
পরিসংখ্যানটা আরও একটু ভেঙে বলা যাক। বিদেশে জেতা ১০ টেস্টের চারটিই বাংলাদেশ জিতেছে ২০২৪ থেকে শুরু করে এই দুই বছরের মধ্যে। মুশফিকুর রহিম রাওয়ালপিন্ডিতে ১৯১ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেছিলেন। কদিন আগে ডারউইনে সেঞ্চুরি করেন তানজিদ হাসান তামিম। ১০১ রানের ইনিংসটি খেলেন অস্ট্রেলিয়ার মাঠে খেলা প্রথম ইনিংসেই। নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুমিনুল হকরাও আছেন দারুণ ছন্দে।
দলগত পারফরম্যান্সেই দেশের বাইরে বাংলাদেশ এত সফল বলে মনে করছেন সিমন্স। তাতে আরও সম্মান বাড়ছে বলে আজ ম্যাকাইতে সংবাদমাধ্যমে সেটা উল্লেখ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন, ‘আগে দেশের বাইরে আমাদের পারফরম্যান্স কিছুটা নড়বড়ে ছিল। কিন্তু এখন বিদেশে নিজেদের পারফরম্যান্সের কারণে আমরা অনেক সম্মান পাচ্ছি। তবে এটা এখন থেকেই নয়। যখন আমরা পাকিস্তানে পাকিস্তানকে হারিয়েছিলাম, তখন থেকেই শুরু হয়েছে। তাই আমরা ক্রমেই আরও বেশি সম্মান অর্জন করছি। আর এটি কেবল সেই সম্মানের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।’
প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে হারের পর প্যাট কামিন্স-ট্রাভিস হেডদের ধুয়ে দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম। এমনকি রিকি পন্টিং, ইয়ান চ্যাপেলের মতো কিংবদন্তিরাও বাংলাদেশের কাছে অনুজদের এমন হার মেনে নিতে পারছেন না। হোয়াইটওয়াশ এড়াতে অস্ট্রেলিয়া যে মরিয়া হয়ে উঠবে, সেটা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। অতীতে অনেকবার দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর অজিরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে দারুণভাবে।
ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে সতর্ক সিমন্স। আজ সাংবাদিকদের বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন, ‘তাদের (ক্রিকেটার) উদ্দেশ্যে আমার একটি কথাই বলার ছিল এবং আমি সেটি আবার বলব যে, অস্ট্রেলিয়া এবার আরও শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। তাই আমাদের হয় সেই পারফরম্যান্সের মান ধরে রাখতে হবে, না হয় আরও কিছুটা উন্নতি করতে হবে। এমনকি কিছু কিছু জায়গায় যদি আমরা ১ শতাংশ উন্নতিও করতে পারি, তবে নিশ্চিত করতে হবে যেন সেই ধারা বজায় থাকে। তবে আমরা জানি যে তারা তাদের খেলার কৌশলে পরিবর্তন আনবে এবং আমাদের ওপর আরও চাপ তৈরির চেষ্টা করবে।’
অস্ট্রেলিয়াকে ডারউইনে হারালেও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ চারে। শান্তর দলের সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ারও অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। ৭৭.৭৮ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে শীর্ষে অজিরা। ম্যাকাইতে ২২ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি জিতলে বাংলাদেশের সফলতার হার হবে ৭২.২২ শতাংশ। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তখন যৌথভাবে তিনে অবস্থান করবে নাজমুল হোসেন শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজদের বাংলাদেশ। এই টেস্ট হারলে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চারে নেমে যাবে। অজিদের সফলতার হার হবে তখন ৭০ শতাংশ।