শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাঠে কাঁপিয়ে দেওয়া, তাও আবার টেস্টে! বাংলাদেশের কাছে এটা যেন স্বপ্নের মতো। যে অস্ট্রেলিয়া এর আগে নিজেদের ডেরায় সবশেষ ১৫ টেস্ট খেলে ১১টিতেই জিতেছে, তাদের আজ রীতিমতো নাচিয়ে ছাড়ছে বাংলাদেশ। ডারউইনে লাঞ্চের আগেই স্বাগতিকদের ৪ উইকেট ফেলে দিল নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।
অবশেষে দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা ফুরোল বাংলাদেশের। ডারউইনে আজ বাংলাদেশ সময় সকালে শুরু হওয়া টেস্টে টস জিতে আগে ব্যাটিং করে সাবধানী শুরু করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, তাসকিন আহমেদদের জবাব দেওয়ার ভাষাই খুঁজে পাচ্ছে না স্বাগতিকেরা। লাঞ্চ বিরতির আগমুহূর্তে ক্যামেরন গ্রিনকে ফেরালেন তাসকিন। প্রথম সেশনের খেলা অস্ট্রেলিয়া শেষ করেছে ২২ ওভারে ৪ উইকেটে ৭৪ রানে।
টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ওয়েদারাল্ড-হেড সাবধানে খেলতে থাকেন। বিশেষ করে হাসানের বল খেলতে বেশ অস্বস্তি হতে থাকে তাঁদের। এরই মধ্যে বাংলাদেশ একটা ভুলও করে বসে। নবম ওভারের পঞ্চম বলে হেডের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন ইবাদত হোসেন চৌধুরী। আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা সাড়া না দেওয়ায় রিভিউ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। রিভিউতে ইমপ্যাক্ট আম্পায়ার্স কল দেখা যায় এবং স্টাম্প মিস করে যায়।
রিভিউ নষ্ট হওয়ার পর বেশিক্ষণ অবশ্য উইকেট পেতে অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। ১২তম ওভারের চতুর্থ বলে হাসানের অফস্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করতে যান জেক ওয়েদারাল্ড। এজ হওয়া বল লুফে নেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। তাতে ভেঙে যায় ওয়েদারাল্ড-হেডের ৭১ বলে ৪৫ রানের জুটি। ওয়েদারাল্ড করেন ২৩ রান।
এক ওভার বিরতিতে ফের আসেন হাসান। ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে তাঁকে দারুণ এক কাভার ড্রাইভে চার মারেন হেড। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি ব্যাটার উইকেটে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি। হাসান মাহমুদের ভেতরে ঢোকা বলে সামনের পায়ে ডিফেন্স করতে যান হেড। তবে হাসানের বল হেডের ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ২২ রান।
দুই ওপেনারের বিদায়ে অস্ট্রেলিয়া ১৩.৪ ওভারে ২ উইকেটে ৫২ রানে পরিণত হয়। স্বাগতিকেরা এরপর বাংলাদেশের পেসারদের তোপে রীতিমতো ধুঁকতে থাকে। চার নম্বরে নামা স্টিভ স্মিথও জীবন পেয়ে যান। ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ইবাদত হোসেন চৌধুরীর বল স্মিথের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় তৃতীয় স্লিপে। তানজিদ হাসান তামিম ডাইভ দিয়েও বল তালুবন্দী করতে পারেননি।
বেঁচে যাওয়া স্মিথের রান কেবল ২। ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে তিনি যে চার তাসকিনকে মেরেছেন, সেটাও এসেছে ভাগ্যের জোরে। কাভার ড্রাইভ করতে যাওয়া স্মিথের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল তৃতীয় স্লিপ দিয়ে চার হয়ে যায়।
ভাগ্য স্মিথের পক্ষে থাকলেও সতীর্থদের সঙ্গে যে তা ছিল না। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ইবাদত হোসেনকে খোঁচা দিতে যান লাবুশেন। এজ হওয়া বল দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্ত তালুবন্দী করলে মাত্র ১ রানেই থেমে যায় লাবুশেনের ইনিংস। এই ১ রান করতে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার ব্যাটার খেলেন ২০ বল।
এক ওভার বিরতিতে এসে ইবাদত আবারও উইকেটের জন্য উদযাপন শুরু করেন। ২১তম ওভারের চতুর্থ বলে স্মিথের ব্যাট ছুঁয়ে বল গ্লাভসে জমা হয়েছে ভেবে জোরালো আবেদন করেন লিটন। ইবাদত ও তাঁর সতীর্থরাও আবেদন করতে থাকেন। আম্পায়ার সাড়া না দেওয়ায় রিভিউ নেন শান্ত। এবার কোনো স্পাইক ধরা পড়েনি। তখন স্মিথের রান ৭।
লাঞ্চের আগের ওভার করতে আসেন তাসকিন। ২২তম ওভারের প্রথম বলে তাঁকে পুল করে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা মারেন গ্রিন। তবে অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটারও উইকেটে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি। সেই ওভারের শেষ বলে তাসকিনকে ফ্লিক করেন গ্রিন। শর্ট মিড উইকেটে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন মুশফিকুর রহিম। ১৩ বলে ১৩ রান করা গ্রিনের বিদায়ে অস্ট্রেলিয়া ২২ ওভারে ৪ উইকেটে ৭৪ রানে পরিণত হয়। তখনই ঘোষণা করা হয় লাঞ্চ বিরতি।