ম্যাকাইতে বাংলাদেশের ইনিংস পরাজয় কেবল সময়ের ব্যাপার। ধ্বংসস্তূপের মাঝে স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে আছেন কেবল মুশফিকুর রহিম। ম্যাচের ফল অনেকটা লেখা হয়ে গিয়েছিল। শুধু ইনিংস পরাজয় এড়াতে পারে কি না, সেটাই ছিল দেখার। সেটা তো সম্ভব হয়নি। এমনকি মুশফিক বারবার বোলারদের ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিচ্ছিলেন।
১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে যখন ২৪ রানে ৩ উইকেটে পরিণত হয়, তখন ব্যাটিংয়ে নামেন মুশফিক। পাঁচ নম্বরে নামা এই ব্যাটার ৮০ বলে ৩ চারে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে তাইজুল ইসলাম, শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদকে বেশি ব্যাটিংয়ের সুযোগ দেন মুশফিক। এমনকি কয়েকবার ওভারের শেষ বলে লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা সিঙ্গেল নিলেও মুশফিক না করেননি।
ইনিংস ও ৫১ রানে হারের পর শান্ত যখন সংবাদ সম্মেলনে আসেন, তখন তাঁর কাছে এসেছে মুশফিকের এমন ব্যাটিংয়ের প্রসঙ্গ। সাংবাদিকদের বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আজকের (গতকাল) যে খেলার অবস্থা ছিল, যারা লোয়ার মিডল অর্ডার বা লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং করছে, তারা খুবই ভালো ব্যাটিং করেছে এই সিরিজে। এটা একটা ইতিবাচক দিক। মুশফিক ভাই তাদের নিয়ে খেলছিলেন। অনেক সময় লিটন ভাই খেলেন। কখনো মিরাজ খেলে।’
তাইজুল-শরীফুল-তাসকিন মিলে খেলেন ৩৭ বল। যাঁদের মধ্যে তাইজুল ২৪ বল খেলে করেন ৭ রান। তাঁকে বোল্ড করেই মিচেল স্টার্ক টেস্টে চতুর্থবারের মতো ম্যাচে ১০ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন। তাসকিন ১ ছক্কায় ৮ রান করলেও শরীফুল রানের খাতাই খুলতে পারেননি। যেখানে ৩৯তম ওভারে তাসকিন-শরীফুলকে ফিরিয়েই বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন লায়ন।
শান্তর মতে মুশফিক আসলে তাইজুল-তাসকিনদের ব্যাটিং ‘শেখাতেই’ বেশি বেশি স্ট্রাইক দিয়েছেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আজকের যে পরিস্থিতি ছিল, একা আসলে কোনো কিছু করা সম্ভব ছিল না। একটা ভালো জিনিস হয়েছে যে এখানে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা এই বোলিংয়ের বিপক্ষে ব্যাটিং করেছে। ভবিষ্যতে এটা কাজে দেবে। আমি এটা এভাবেই দেখছি এবং সেখানে একটা সুন্দর পরিকল্পনা ছিল। যারা মাঝখানে ব্যাটিং করেছে, তারা ঠিক ডিসিশন নিয়েছে বলে মনে করছি।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে সবশেষ সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন লিটন দাস। সেই টেস্টে ১২৬ ও ৬৯ রানের দুটি ইনিংস খেলে বাংলাদেশের জয়ে অবদান রাখেন তিনি। তবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ডারউইন ও ম্যাকাই টেস্টে যে ইনিংসে ব্যাটিং করেছেন, প্রত্যকবারই স্টার্কের বলে আউট হয়েছেন লিটন। সর্বসাকল্যে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ব্যাটার খেলেন ২৭ বল।
বাজে অবস্থা থেকে লিটন দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবেন বলে আশা শান্তর। ম্যাকাইতে দুই দিনে হারের পর বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘লিটন ভাই এর আগে এরকম তিনটা-চারটা ভালো ইনিংসও খেলেছেন। এই তিনটা শূন্য আমি সেভাবে দেখছিই না। এখনো মনে করি যে লিটন ভাই যেভাবে ছয় নম্বরে নেমে রান করে দলের জন্য, সেটা অনেক কার্যকরী। আমি যেটা একটু আগে বললাম। এরকম কঠিন একটা কন্ডিশনে ভালো বলে অনেক সময় আউট হয়ে যেতেই পারে। তবে আমরা তার গুণগত মান সম্পর্কে জানি এবং সে টেস্ট ম্যাচে কীভাবে বাংলাদেশ দলের হয়ে অবদান রাখছে, সবারই জানা। আশা করি পরের সিরিজে খুব ভালোভাবে কামব্যাক করবে।’
ম্যাকাইতে ভরাডুবির পরও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আগের মতোই চার নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর শান্তর দলের সফলতার হার এখন ৫৫.৫৬ শতাংশ। ৬ ম্যাচে ৩ জয়, ২ হার ও ১ ড্রয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪০।