‘ধানখেতের উইকেট’, ‘স্পিনবান্ধব উইকেট’ বানানোর কারণে মিরপুরের উইকেট নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। তবে এবার মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের প্রথম টেস্টে দেখা যাচ্ছে ব্যতিক্রমী চিত্র। সবুজ উইকেটে পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস, শাহিন শাহ আফ্রিদিরা ছড়ি ঘুরিয়েছেন। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ যে এই পেস বান্ধব উইকেটে দেখিয়েছেন তাঁর ঘূর্ণিজাদু। গুনে গুনে নিয়েছেন ৫ উইকেট।
তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানারা বলের পর বল করে গেলেও পাকিস্তানি ব্যাটারদের খেলতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি। ক্যাচ মিসের পাশাপাশি নো বল এবং এলোমেলো লাইন লেংথের কারণে সুবিধা করতে পারেননি তাসকিন-রানারা। কিন্তু মিরাজ বোলিং করেছেন নিখুঁত লাইন-লেংথে। টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৪ বারের মতো এক ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
পাকিস্তান আজ এক পর্যায়ে লিডের সম্ভাবনা তৈরি করলেও মিরাজের ঘূর্ণিজাদুতে নাকাল হয়েছে। বাংলাদেশ ৩৪ রানে এগিয়ে থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে। যার মধ্যে লিড ২৭ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো উইকেট হারায়নি স্বাগতিকেরা। জয় ২ রানে অপরাজিত। আর সাদমান ইসলাম এখনো রানের খাতা খুলতে পারেননি।
দলের যখন প্রয়োজন, ঠিক সে সময়ই সাড়া দিয়েছেন মিরাজ। যে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন, প্রত্যেকেই বাঁহাতি ব্যাটার। হুমকি হয়ে ওঠা পাকিস্তানের ১০৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে শুরু। ওপেনার ইমাম উল হককে (৪৫) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেছেন মিরাজ। পাকিস্তানের ওপেনার রিভিউও নষ্ট করেছেন। সহ-অধিনায়ক সৌদ শাকিলকে রানের খাতাই খুলতে দেননি মিরাজ। শাকিল স্লগ সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েছেন।
গলার কাঁটা হয়ে ওঠা আব্দুল্লাহ ফজলকেও (৬০) ফিরিয়েছেন মিরাজ। ফজল ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে মিড অনে তাইজুল ইসলামের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন। মিরাজ এরপর নোমান আলী (২) ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে (১৩) ফিরিয়ে পূর্ণ করেছেন ফাইফার। যেখানে নোমানের উইকেটে স্লিপে ক্যাচ ধরেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আর আফ্রিদি তো মিরাজকে উইকেট উপহারই দিয়েছেন। আলতো ড্রাইভে শর্ট কাভারে দাঁড়ানো মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন আফ্রিদি।
পাকিস্তান নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪৬ ওভারে ১ উইকেটে ১৭৯ রানে আজ তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে। প্রথম দুই সেশনে পাকিস্তান রান তোলার পাশাপাশি নিয়মিত বিরতিতে উইকেটও হারিয়েছে। যেখানে ৯০তম ওভারের চতুর্থ বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফিরিয়েছেন তাইজুল। মিড অফে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেছেন মাহমুদু্ল হাসান জয়।
রিজওয়ানের বিদায়ে ৮৯.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৪৯ রানে পরিণত হয় পাকিস্তান। তখনই মুষলধারে নামে বৃষ্টি। ২ ঘণ্টা বৃষ্টির বাগড়ায় খেলা বন্ধ থাকার পর বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে খেলা শুরু হয়। শেষ বিকেলে ছড়ি ঘোরায় বাংলাদেশ। ৩৭ রানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে ১০০.৩ ওভারে ৩৮৬ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ১.৫ ওভারে বিনা উইকেটে ৭ রান করার পর দেখা দেয় আলোকস্বল্পতা। ম্যাচ কর্মকর্তারা আর খেলা পরিচালনা করা সম্ভব নয় দেখে দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন।
পাকিস্তানের অভিষিক্ত ব্যাটার আজান আওয়াইস ১৬৫ বলে ১৪ চারে করেছেন ১০৩ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬০ রান করেছেন আরেক অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল। ফিফটি করেছেন সালমান আলী আঘা (৫৮) ও রিজওয়ান (৫৯)। সফরকারীদের ১০ উইকেটের সাতটিই বাংলাদেশ পেয়েছে ঘূর্ণিজাদুতে। মিরাজের ৫ উইকেটের পাশাপাশি ২ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। হাসান আলীকে বোল্ড করে পাকিস্তানের ইনিংসের ইতি টেনেছেন তাইজুল। তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা ২ ও ১ উইকেট পেয়েছেন।