হোম > খেলা > ক্রিকেট

‘অস্ট্রেলিয়াকে ঘায়েল করতে ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েই এসেছে বাংলাদেশ’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

বাংলাদেশের সামনে এখন অস্ট্রেলিয়াই অসহায়। ছবি: এএফপি

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে এসে রীতিমতো ছড়ি ঘোরাচ্ছে বাংলাদেশ। বোলিংয়ের পর এবার ব্যাটিংয়েও দুর্দান্ত খেলছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। ডারউইনে এখন যেন অসহায় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াই। অজি অলরাউন্ডার বিউ ওয়েবস্টার কৃতিত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশকেই।

প্রথম ইনিংসে ৯৬ রানে ১ উইকেটে বাংলাদেশ আজ দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে। সফরকারীদের নামের পাশে তখন ২৪ ওভার। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। ইনিংসের রানরেট ৩.১৯ হলেও দ্বিতীয় দিনে সফরকারীরা খেলেছে ৩.০৪ রানরেটে। শান্তদের প্রশংসায় ভাসিয়ে আজ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওয়েবস্টার বলেন, ‘অবশ্যই বাংলাদেশকে পুরো কৃতিত্ব দিতে হবে। আজ সকালে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে তারা। বিকেলের দিকেও ভালো করেছে। স্পিন সামলেছে ভালো। মাঝেমধ্যে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছে। চাপ সামলে ভালো খেলেছে। হ্যাঁ, তাদের পুরো কৃতিত্ব দিচ্ছি।’

দ্বিতীয় ও তৃতীয় উইকেটে মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ১০২ ও ৯৩ রানের দুটি জুটি গড়তে অবদান রাখেন তামিম। চতুর্থ উইকেটে ৬৬ রানের জুটি গড়েন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে শান্ত টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া থেকে ১৬ রান আগে আউট হয়েছেন। শান্ত (৮৪), লিটন (০) ও মুশফিক (৩৬) দ্রুত বিদায় নিলে বাংলাদেশ মুহূর্তেই ৩ উইকেটে ২৯৭ রান থেকে ৬ উইকেটে ৩০৮ রানে পরিণত হয়। এরপর সপ্তম উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ ৪৩ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়ে দিনের খেলা শেষ করেছেন।

মিচেল স্টার্ক-প্যাট কামিন্স-জশ হ্যাজলউড-নাথান লায়নের মতো পরীক্ষিতদের দারুণভাবে সামলে এখন বাংলাদেশই চালকের আসনে। ওয়েবস্টারের মতে, শান্তরা এবার আটঘাট বেঁধেই খেলতে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ায়। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওয়েবস্টার বলেন, ‘বাংলাদেশ ভালো ব্যাটিং করেছে। সেটা তো আগেই বললাম। ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিল তারা। স্পিন সামলানোসহ সব ব্যাপারে তাদের ভালো পরিকল্পনা ছিল। আমরা চেষ্টা করছি তাদের উইকেট তুলে নিতে। তারা বেশ ভালো ব্যাটিং করেছে। কাল যত দ্রুত সম্ভব, তাদের সব উইকেট ফেলে দিতে চাই।’

বাংলাদেশ এরই মধ্যে ১৫৩ রানের লিড নিয়ে ফেলেছে। কত রান করলে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর জন্য যথেষ্ট—এই প্রশ্নের উত্তরে তানজিদ হাসান তামিম বলেন, ‘আমরা চাইব যত বেশি সেশন ব্যাটিং করা যায়, তত আমাদের জন্য ভালো। যত বেশি রান দেওয়া যায় তাদের সামনে, তত আমাদের বোলারদের জন্য কাজটা সহজ হবে।’ মিরাজ ও হাসান ৩২ ও ১৩ রানে ব্যাটিং করছেন।

ওয়েবস্টারের মতে, যত দ্রুত বাংলাদেশকে গুটিয়ে দেওয়া যাবে, সেটাই অস্ট্রেলিয়ার জন্য মঙ্গল। স্টিভ স্মিথ, ট্রাভিস হেড, মারনাস লাবুশেনদের নিয়ে অজিদের তারকাখচিত ব্যাটিং লাইনআপ বাংলাদেশের সামনে পর্যাপ্ত লক্ষ্য ছুড়ে দিতে পারবে বলে মনে করেন ওয়েবস্টার। এমনকি ওয়েবস্টারেরও ব্যাটিং সামর্থ্য আছে। আজ দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমাদের ড্রেসিংরুমের যে মান, সবাই এখনো বিশ্বাস করে, এই ম্যাচ জয়ের সুযোগ এখনো রয়েছে। অবশ্যই এখানকার শেষ ৪ উইকেট যত দ্রুত সম্ভব তুলে নিতে হবে। এরপর অন্তত দুই দিন ভালো ব্যাটিং করতে হবে। অনেক পরিশ্রম করতে হবে আমাদের।’

ওয়েবস্টার ডারউইনে চলমান প্রথম টেস্টে নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উইকেট আরও ব্যাটিং উপযোগী হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন তপ্ত রোদের মধ্যে টেস্ট খেলার প্রসঙ্গও। ৩২ বছর বয়সী অজি অলরাউন্ডার বলেন, ‘আসলে টেস্ট ক্রিকেটটাই তো এ রকম। গরম এখানে অনেক। ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বোলিং করতে গেলে সবারই খানিকটা ক্লান্তি আসে। উইকেট মনে হচ্ছে একটু বেশিই ফ্ল্যাট। প্রথম দিনের সকালের চেয়ে বেশি। তবে বাকি তিন দিনে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’

টস জিতে ডারউইনে প্রথম টেস্টে আগে ব্যাটিং নিয়ে ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। স্টিভ স্মিথের ৭১ রান ছাড়া বলার মতো কিছু নেই অজিদের ইনিংসে। বাংলাদেশের হাসান মাহমুদ ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেছেন। ইবাদত হোসেন চৌধুরী ও তাসকিন আহমেদ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।

বাংলাদেশের ৩৫১ রানের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০১ রান এসেছে তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাট থেকে। ১৯৭ বলের ইনিংসে মেরেছেন ৮ চার ও ১ ছক্কা। অস্ট্রেলিয়ার স্টার্ক-হ্যাজলউড দুটি করে উইকেট পেয়েছেন। একটি করে উইকেট নিয়েছেন লায়ন ও কামিন্স।