অস্ট্রেলিয়াকে রীতিমতো নাচিয়ে ছেড়েছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরীদের আগুনে বোলিংয়ে স্কোরবোর্ডে ২০০ রানও জমা করতে পারেনি অজিরা। ধারাভাষ্যকার ক্যারি ও’ কিফ বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ।
টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে ৪৫ রানের জুটি গড়েন দুই ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেড। হঠাৎ ধসে ৪ উইকেটে ৭৪ রানে পরিণত হওয়ার পর হাল ধরেন স্টিভ স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। পঞ্চম উইকেটে স্মিথ-ক্যারি গড়েন ৫৫ রানের জুটি। যা অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটি। এই জুটি ভাঙতেই ৬৯ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অজিরা। ইনিংস বিরতিতে কায়ো স্পোর্টসকে ধারাভাষ্যকার ও’কিফ বলেন, ‘আমার মতে অস্ট্রেলিয়ার জনগণের কাছে এটা একটা বার্তা যে এই বাংলাদেশ দল খেলতে এসেছে।’
আইসিসি ইভেন্টে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বাংলাদেশ খেললেও টেস্টের হিসেবে সেটা আরও পরে। সবশেষ এখানে ২০০৩ সালে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে এসে বাংলাদেশ কেমন করবে, তা নিয়ে চলছিল আলোচনা। বিশেষ করে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ইনিংস ও ৩৮ রানে হারের পর বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গতকাল যখন প্যাট কামিন্সকে সংবাদ সম্মেলনে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ডারউইন টেস্ট কত দিনে শেষ হবে, উত্তরে তিনি হেসে বলেছিলেন, ‘কে জানেন!’
ডারউইনে আজ সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংস শেষে ও’কিফ সাম্প্রতিক আলোচনা নিয়ে কথা বলেন। তাঁর মতে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে প্রথম দিনটা এরই মধ্যে জিতে ফেলেছে বাংলাদেশ। কায়ো স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘অনেকেরই ধারণা ছিল এই খেলা বেশিদিন টিকবে না। কিন্তু বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত প্রথম দিনটি পরিষ্কারভাবে জিতে নিয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের মধ্যে ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্টিভ স্মিথ। হাসান মাহমুদ ৫৫ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। টেস্টে এটা তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে তিনটি ফাইফারের তিনটিই নিয়েছেন বিদেশের মাঠে। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী। বাংলাদেশের ষষ্ঠ বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়েছেন ৩০০ উইকেট। এই তালিকায় সবার ওপরে থাকা সাকিব আল হাসানের উইকেট ৭১২।
সাকিবের পরে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তিন সংস্করণ মিলে বেশি উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। মাশরাফির উইকেট ৩৮৯। মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়েছেন ৩৮৪, ৩৬৯ ও ৩০২। ডারউইনে প্রথম টেস্টে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ করেছে ১০ ওভারে ১ উইকেটে ৪০ রান।