হোম > খেলা > ক্রিকেট

মিরাজ-স্টার্কের ঝগড়া নিয়ে কী বললেন তামিম

ক্রীড়া ডেস্ক    

সেঞ্চুরির পর তানজিদ হাসান তামিম এভাবেই উদযাপন করেছেন। ছবি: এএফপি

ডারউইনে আজ হঠাৎ করেই আলোচনায় মেহেদী হাসান মিরাজ-মিচেল স্টার্ক। বিশেষ কোনো রেকর্ডের জন্য নয়। প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে। যা সামলাতে এগিয়ে আসতে হয়েছে মাঠের আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনাকেও। তবে সতর্ক ছিলেন বলেই তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেনি।

ইনিংসের ১০৩তম ওভারের শেষ বলে স্টার্ককে পয়েন্টে ঠেলে মিরাজ সিঙ্গেল নেন। বলের দিকে তাকিয়ে সিঙ্গেল নিতে নিতে মিরাজ নন-স্ট্রাইক প্রান্তে পৌঁছানোর আগেই স্টার্ক সেটা আম্পায়ার ধর্মসেনাকে বুঝিয়েছেন। মিরাজকে ধমক দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার বলেন, ‘এটা আমার রাস্তা, তোমার নয়। তোমার উইকেট আমি নেব।’ মূলত মিরাজ ভুল করে ‘নিষিদ্ধ’ লাইন দিয়ে দৌড়েছেন বলেই স্টার্কের সঙ্গে তাঁর তর্ক লেগেছে। ধারাভাষ্যকারেরাও তেমন কিছুই বলেছেন।

ম্যাচ শেষে যখন তানজিদ তামিম সংবাদ সম্মেলনে আসেন, তখন তাঁর কাছে এসেছে মিরাজ-স্টার্কের প্রসঙ্গ। ব্যাটিংয়ের সময় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা কি এমন কিছু করেছিলেন—এই প্রশ্নের উত্তরে তামিম বলেন, ‘আসলে আমি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম এটার জন্য। জানি, তারা যখন উইকেট পাবে না, অনেক কঠিন সময় দেবে। সেটা বোলিং করে হোক বা মুখে কথা বলে হোক। তবে তারা করেছে কিছুটা, অতটা করেনি। তবে যেহেতু আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, গুরুত্ব দিইনি জিনিসটা।’

তামিম গতকাল ওপেনিংয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে আজ আউট হয়েছেন। দীর্ঘ ৩০৮ মিনিট উইকেটে ছিলেন। টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাঠে করে ফেললেন সেঞ্চুরি। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর শূন্যে উড়েছেন। ব্যাট ও হেলমেট উঁচিয়ে দর্শকদের উদ্দেশে অভিনন্দনের জবাব দিয়েছেন। ১৯৭ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় করেন ১০১ রান। বাংলাদেশ দিন শেষ করেছে ৬ উইকেটে ৩৫১ রানে। লিড এখন ১৫৩ রানের।

উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কীভাবে খেলেছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা, সেটার ব্যাখ্যা তামিম দিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে। উত্তরে তিনি বলেন, ‘যেহেতু তারা এক নম্বর দল, কঠিন সময় তো অবশ্যই দেবে। তবে আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, তাদের বিপক্ষে নতুন বলে খেলাটা একটু কঠিন ছিল। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি কীভাবে শট কম খেলে স্ট্রাইক রোটেট করা যায় এবং চেষ্টা করেছি যে, আমরা উইকেটে থেকে বাজে শট না খেলে কীভাবে একটা জুটি গড়া যায়।’

দ্বিতীয় ও তৃতীয় উইকেটে মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ১০২ ও ৯৩ রানের দুটি জুটি গড়তে অবদান রাখেন তামিম। চতুর্থ উইকেটে ৬৬ রানের জুটি গড়েন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে শান্ত টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া থেকে ১৬ রান আগে আউট হয়েছেন। শান্ত (৮৪), লিটন (০) ও মুশফিক (৩৬) দ্রুত বিদায় নিলে বাংলাদেশ মুহূর্তেই ৩ উইকেটে ২৯৭ রান থেকে ৬ উইকেটে ৩০৮ রানে পরিণত হয়।

তামিমের মতে, বেশ কয়েকটি জুটি বাংলাদেশের স্কোর ৩৫০ ছাড়াতে অবদান রেখেছে। সংবাদ সম্মেলনে তানজিদ তামিম বলেন, ‘আপনি দেখবেন যে, আমার-শান্ত ভাইয়ের জুটি, আমার-মুমিনুল ভাইয়ের পার্টনারশিপ এবং মুশি ভাই-শান্ত ভাইয়ের জুটি অনেক ভালো ছিল। এটা আসলে ভালো একটা রান করতে অনেক সহায়তা করেছে। আর যেটা বললেন যে, ওদের, আমি আসলে কখনো বোলারের দিকে তাকিয়ে খেলি নাই। সব সময় চেষ্টা করেছি বলের মেরিট অনুযায়ী ব্যাটিং করার।’

শূন্য ও ৬২ রানে দুবার জীবন পেয়ে সেঞ্চুরি করেছেন তামিম। গতকাল হ্যাজলউডের বল তুলে মারতে গিয়ে আকাশে উঠলে বলটি তালুবন্দী করতে পারেননি নাথান লায়ন। আজ বোলার ছিলেন লায়ন। দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ মিস করেছেন স্মিথ। ১০১ রানের ইনিংসের পর ফক্স স্পোর্টসের অ্যাডাম গিলক্রিস্ট সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তামিমের।

আজ সংবাদ সম্মেলনে তামিমের কাছে এসেছে স্মিথ-গিলক্রিস্টের প্রসঙ্গও। উত্তরে ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, ‘দেখুন, ক্যাচ ড্রপের কথা যেটা বললেন, এটা খেলারই একটা অংশ। তার সময়ে কিন্তু দেখেছেন একটা স্নিক হয়েছিল। কিন্তু সে বেঁচে গেছে। তো আমার কাছে মনে হয় যে, এটা খেলার অংশ। এটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আর যেটা বললেন, অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে ছোটবেলায় যখন দেখতাম আর তিনি যখন আমার সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন, আমাকে বলছিলেন যে, তিনি অনেক উপভোগ করেছেন আমার ব্যাটিংটা। তো এটা ভালো লাগার বিষয় আমার কাছে।’

ডারউইনে সেঞ্চুরি করে হানিফ মোহাম্মদের ৬২ বছর আগের স্মৃতি মনে করালেন তামিম। ১৯৬৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম ইনিংসেই তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন হানিফ। এমনকি ২০০৬ সালে শাহরিয়ার নাফিসের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিয়ান বনে গেলেন তামিম। ডারউইনে সেঞ্চুরিটা তাই তামিমের কাছে বিশেষ কিছুই। বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, ‘দিন শেষে যেটা বললেন, আমার দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরি। সত্যিই একটা ভালো লাগার মুহূর্ত।’

টস জিতে ডারউইনে প্রথম টেস্টে আগে ব্যাটিং নিয়ে ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। স্টিভ স্মিথের ৭১ রান ছাড়া বলার মতো কিছু নেই অজিদের ইনিংসে। বাংলাদেশের হাসান মাহমুদ ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেছেন। মিরাজের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে এরই মধ্যে ৪৩ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়ে ফেলেছেন হাসান।

প্রথম ইনিংসে ১১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫১ রানে বাংলাদেশ শেষ করেছে দ্বিতীয় দিনের খেলা। তানজিদ হাসান তামিম করেছেন ১৯৭ বলে ১০১ রান। ৮ চার ও ১ ছক্কা মেরেছেন তিনি। মিরাজ ও হাসান ৩২ ও ১৩ রানে ব্যাটিং করছেন।