হোম > খেলা > ক্রিকেট

বাংলাদেশ-ভারত সিরিজের কথা শুনলে এই ম্যাচটাই মনে পড়ে মিরাজের

ক্রীড়া ডেস্ক    

২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজ হয়েছিলেন সিরিজসেরা। ছবি: ক্রিকইনফো

বল এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে যেতেই মেহেদী হাসান মিরাজের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, সেঞ্চুরির পর উদযাপন—বুঝতেই পারছেন, এখানে ঘটনার প্রেক্ষাপট আসলে কী। ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে হয়েছিলেন সিরিজসেরা। চার বছর পর যখন দরজায় কড়া নাড়ছে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ, মিরাজের মন পড়ে আছে ২০২২ সালের সেই ম্যাচে।

মিরাজ এখন শ্রীলঙ্কায় গল গ্যালান্টসের হয়ে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) ব্যস্ত। গতকাল যখন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন, তখন জিজ্ঞেস করা হলো চার বছর আগের সেই ঘটনার কথা। যেখানে মিরপুরে ৬৯ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর সপ্তম উইকেটে ১৪৮ রানের জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-মিরাজ। মাহমুদউল্লাহ ৭৭ রান করে আউট হলেও মিরাজ তুলে নিয়েছিলেন সেঞ্চুরি।

টানটান উত্তেজনায় ভরপুর ম্যাচটি ৫ রানে জিতে বাংলাদেশ এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করেছিল সিরিজ। সেই ম্যাচের স্মৃতিরোমন্থন করতে গিয়ে মিরাজ গতকাল বলেন, ‘সেটি আমার জন্য খুবই বিশেষ একটি মুহূর্ত ছিল। আমরা যখন ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলেছিলাম, তখন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ভাই এবং আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তুলি। সেই সময় আমি খুব বেশি কিছু ভাবিনি।’

৬৯ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের অধিকাংশ ভক্ত-সমর্থকই আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তখনই ত্রাতায় ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মিরাজ ৮৩ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। ৭ উইকেটে ২৭১ রান করে স্কোরবোর্ডে লড়াই করার মতো পুঁজি তুলতে মিরাজের অবদান ছিল অপরিসীম। বোলিংয়ে এরপর শ্রেয়াস আইয়ার ও লোকেশ রাহুলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন।

সেদিনের সেই রুদ্ধশ্বাস জয়ের স্মৃতি আজীবন মনে রাখবেন বলে জানিয়েছেন মিরাজ। গতকাল বাংলাদেশের বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক বলেন, ‘আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ইতিবাচক থাকা, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলা এবং প্রতিটি বল আলাদাভাবে মোকাবিলা করা। আমরা বিশ্বাস ধরে রেখেছিলাম, আর শেষ পর্যন্ত সেটি একটি স্মরণীয় জয়ে পরিণত হয়। সেই মুহূর্ত আমি কখনোই ভুলব না।’

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ভারতের। সেই সিরিজে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি হতে যাচ্ছে। যে ভারত বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্বে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—সাদা বলে সবশেষ তিনটি আইসিসি ইভেন্ট জিতেছে ভারত। যদিও সম্প্রতি সূর্যকুমার যাদবকে সরিয়ে শ্রেয়াস আইয়ারকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক করা হয়। আইয়ারের নেতৃত্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই, ইংল্যান্ডের কাছে চার টি-টোয়েন্টিতে হারের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতেছে দুই ম্যাচ।

যেহেতু মিরাজ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক, তাঁর ভাবনাতে শুধু ওয়ানডে সিরিজই রয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ সম্পর্কে গতকাল তিনি বলেন, ‘আমরা এই সিরিজ নিয়ে খুবই রোমাঞ্চিত। ভারত যদি আসে, তাহলে এটি আমাদের দেশের জন্য একটি বড় উপলক্ষ হবে। কারণ, তাদের বিপক্ষে অনেক দিন আগে খেলেছি। ভারত খুবই শক্তিশালী দল। এই সিরিজটি যে চ্যালেঞ্জিং হবে, সেটা আমাদের জানা। ঘরের কন্ডিশনে ভালো ক্রিকেট খেলতে মনোযোগ দেব। দারুণ একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজের অপেক্ষায় আছি।’

তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে গত বছর অবসর নিয়েছেন। মুশফিকুর রহিমও ওয়ানডেকে বিদায় বলেছেন। মাশরাফি বিন মর্তুজা সবশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন ২০২০ সালে। আর সাকিব আল হাসান তো ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্রাত্য। তবু মিরাজের নেতৃত্বে ‘পঞ্চপাণ্ডববিহীন’ বাংলাদেশ খেলছে দুর্দান্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া—টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২১ বছর ধরে কোনো ওয়ানডে জিততে পারত না, তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে মিরাজের নেতৃত্বেই।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজ জয় অনেক বড় অর্জন মনে করেন মিরাজ। শ্রীলঙ্কায় গতকাল ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এটি আমার জন্য এবং পুরো দলের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। গত কয়েকটি সিরিজে আমরা সত্যিই দারুণ ক্রিকেট খেলেছি, এবং খেলোয়াড়রা অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। চাপের মুহূর্তগুলোও আমরা ভালোভাবে সামলেছি। আসন্ন বিশ্বকাপ আমাদের জন্য একটি বিশাল সুযোগ, কারণ বিশ্বকাপে খেলা প্রতিটি খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন। আমাদের প্রতিদিন আরও উন্নতি করতে হবে এবং বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি ও কন্ডিশনের সঙ্গে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে হবে।’

২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে মিরাজ হয়েছিলেন সিরিজসেরা। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১৪১ রানের পাশাপাশি নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। সেই সিরিজের পর তিন ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ-ভারত। ২০২৩ এশিয়া কাপে বাংলাদেশ জেতে ৬ রানে। তবে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি—আইসিসির এই দুই ইভেন্টে জেতে ভারত।

টানা চার ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর মিরাজের কাছে সংখ্যাটা পাঁচে নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু জিম্বাবুয়ে সিরিজে ব্যাটিং ব্যর্থতা সম্ভব হয়নি। সদ্য সমাপ্ত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। একমাত্র টেস্টেও ইনিংস এবং ৮৫ রানে হারে বাংলাদেশ। তবে তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতে ২-১ ব্যবধানে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মিরাজ গত এক বছর ধরে ব্রাত্য।

সিংহাসন ফিরে পেল ভারত, বাংলাদেশের কী অবস্থা

জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশিদের আতিথেয়তা এখনো ভুলতে পারছেন না আশরাফুল

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে ছিটকে গেলেন নাহিদ রানা

সিরিজ শুরুর আগেই ধাক্কা খেল পাকিস্তান

রানার ঘটনাটা নিছকই একটা দুর্ঘটনা, বলছেন বিসিবি প্রধান নির্বাচক

‘বাংলাদেশ সিরিজ অস্ট্রেলিয়া হালকাভাবে নেয়নি’

মোস্তাফিজের পরিবর্তে কাকে নিল ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি

এশিয়ান গেমসে সুখবর পেল বাংলাদেশ

লর্ডসে ১৭ বছরের অপেক্ষা ফুরোচ্ছে বাংলাদেশের, মেয়েদেরও আতিথেয়তা দেবে ইংল্যান্ড

ভারত সিরিজে ভরাডুবির পর নেতৃত্ব ছাড়লেন আফগান ক্রিকেটার