লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগমুহূর্তে বাজপাখির মতো উড়ে ক্যাচ ধরে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন লিটন দাস। লিটনকে অভিনন্দন জানালেন তাইজুল ইসলাম-মেহেদী হাসান মিরাজরা। ইকরাম আলী খানকে স্যালুট দিলেন ইবাদত হোসেন চৌধুরী। দ্বিতীয় সেশনে মেহেদী হাসান মিরাজ হানেন জোড়া আঘাত। তবে সেদিকউল্লাহ আতাল বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়ে এখনো বিঁধে রয়েছেন।
আজ পঞ্চম দিনে আফগানিস্তানের প্রথম উইকেট ফেলতে বাংলাদেশ ১৬৩ বল বোলিং করেছে। লিটনের অবিশ্বাস্য ক্যাচে বাংলাদেশ মোমেন্টাম ফিরে পেলেও সেটা ছিল সাময়িক। লাঞ্চ বিরতির পর ২ উইকেট ফেলেছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। জিততে শান্ত-মিরাজদের দরকার ৪ উইকেট। তবে আতালকে এখনো ফেলতে পারছে না বাংলাদেশ। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে আতাল এখন ১০৫ রানে অপরাজিত। চা পানের বিরতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ১০৮ ওভারে ৬ উইকেটে ২৬৫ রান করেছে আফগানরা।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩২ রানে আফগানিস্তান আজ পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে। দ্রুতই হারাতে পারত আরও একটা উইকেট। ৫৩তম ওভারের তৃতীয় বলে মেহেদী হাসান মিরাজের বল ডিফেন্স করতে গিয়ে শর্ট লেগে ক্যাচ দেন আতাল। তবে তানজিদ হাসান তামিম তা মিস করেছেন। আতালের রান তখন ৩৭।
তামিম ক্যাচ মিস করার পরের বলেই ধাক্কা খায় আফগানিস্তান। ৫৩তম ওভারের চতুর্থ বলে মিরাজকে মিড অনে ঠেলে সিঙ্গেল নেন আতাল। তবে আতালের সঙ্গী শাহিদীর শরীর আর সায় দিল না। মাঠেই বসে পড়া অবস্থায় শাহিদীর চিকিৎসা করতে থাকেন ফিজিওরা।
দ্রুতই দুই বদলি খেলোয়াড়ের সহায়তায় শাহিদীকে উঠিয়ে নেওয়া হয়। মাঠ ছাড়ার সময় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বের হতে থাকেন তিনি। আফগানিস্তানের বাঁহাতি ব্যাটারের নামের পাশে লেখা আহত অবসর। মানে তাঁর আরও একবার নামার সুযোগ আছে। মাঠ ছাড়ার আগে ৩৩ বলে ২ চারে ২০ রান করেন তিনি।
শাহিদীর পরিবর্তে নামেন ইকরাম। আতাল আর তিনি বাংলাদেশের পরীক্ষা নিতে থাকেন। মাঝেমধ্যে চার-ছক্কা মারলেও তাইজুল-মিরাজ-নাঈম হাসানদের একের পর এক বল ডিফেন্স করতে থাকেন তাঁরা (আতাল-ইকরাম)। বেশ কয়েকবার আতাল-ইকরামের জুটি ভেঙে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। একবার তো বাংলাদেশ রিভিউই নষ্ট করে ফেলে। ৬০তম ওভারের শেষ বলে ইকরামের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন ইবাদত। আম্পায়ার সাড়া না দেওয়ায় রিভিউ নেন শান্ত। রিভিউতে দেখা যায়, বল অল্পের জন্য স্টাম্প মিস করেছে।
ব্যক্তিগত ৬৬ রানের সময় আতাল একবার আউট হতে হতে বেঁচে গিয়েছেন। ৭৩তম ওভারের চতুর্থ বলটি করেন তাইজুল। ভারসাম্য হারিয়ে আতালের ব্যাট প্রায় স্টাম্প ছুঁয়েই ফেলছিল। কিন্তু অল্পের জন্য বেঁচে যান। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৭৮তম ওভারের প্রথম বলে ইবাদতের শর্ট বল পুল করতে যান ইকরাম। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে নিশ্চিত বাউন্ডারিকে ক্যাচে পরিণত করেন।
ইকরাম আউট হতেই ভেঙে যায় চতুর্থ উইকেটে আতালের সঙ্গে গড়া তাঁর ৬৬ রানের জুটি। ৬৯ বলে ৫ চারে ৩৩ রান করেন ইকরাম। আফগানিস্তান ৭৭.১ ওভারে ৪ উইকেটে ২০২ রানে পরিণত হয়। ঠিক তার ১১ বল পরই লাঞ্চে যায় আফগানরা। ৭৯ ওভারে ৪ উইকেটে আফগানদের স্কোর তখন ২০৩ রান।
আতাল যেন কই মাছের প্রাণ নিয়ে খেলতে নেমেছেন। একবার ব্যাটের কানায় লেগে বল চার হয়ে গেছে। ব্যক্তিগত ৭০ রানের সময় আরেকবার জীবন পান আতাল। ৮৫তম ওভারের পঞ্চম বলে তাইজুলকে স্লগ সুইপ করতে যান আতাল। আফগান বাঁহাতি ব্যাটার সামান্য সময়ের জন্য বের হলেও লিটন স্টাম্পিং করতে পারেননি। এদিকে ইসমাত ৪৬ বল খেলে রানের খাতা খুলেছেন।
বারবার বেঁচে যাওয়া আতালের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করতে লেগেছে ২৭৭ বল। ৯৭তম ওভারের শেষ বলে হাসান মাহমুদকে পুল করে চার মেরে আফগান বাঁহাতি ব্যাটার ছুঁয়েছেন তিন অঙ্ক। তিনি সেঞ্চুরি করার পরের ওভারেই উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। মাটি কামড়ে পরে থাকা ইসমাতকে ফেরান মিরাজ। স্লিপে ক্যাচ ধরেন অধিনায়ক শান্ত।
৬০ বল খেলে ৪ রান করে ইসমাত ফেরেন। ফিরে আসেন হাশমাতউল্লাহ শাহিদী। যিনি চতুর্থ উইকেটে আতালের সঙ্গে ২৬ রান যোগ করেন। ফেরার পর শাহিদী চার-ছক্কা মেরেছেন। কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি। ১০৬তম ওভারের চতুর্থ বলে মিরাজ ফ্লাইটেড ডেলিভারি দেন শাহিদীকে। ডাউন দ্য উইকেটে মারতে গিয়ে মিড অনে হাসানের হাতে ক্যাচ তুলে দেন শাহিদী। ৬৯ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৬ রান করে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে ব্যাট ঘাসে বাড়ি দিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন আফগান বাঁহাতি ব্যাটার।
শাহিদী ফেরার পর উইকেটে আসেন ইয়ামিন আহমাদজাই। ইনিংসে দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেওয়া মিরাজ চা পানের বিরতির আগে আর একটা ওভার করতে পেরেছেন। ১০৮ ওভারে ৬ উইকেটে ২৬৫ রান করেছে আফগানিস্তান। আতাল ২৯৯ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ১০৫ রান করে অপরাজিত। ইয়ামিন ৫ বল খেলে এখনো কোনো রান করতে পারেননি।