হোম > খেলা > ক্রিকেট

এই জিনিসগুলো যেন ভুলে না যাই, আপনারাও মনে রাইখেন: শান্ত

ক্রীড়া ডেস্ক    

বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ছবি: এএফপি

মাত্র ৭৫০ বলেই শেষ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। ম্যাকাইতে মাত্র দুদিনে হেরে যাওয়ায় আলোচনায় বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে টেস্টের পিচ নিয়েও। নাজমুল হোসেন শান্তর মতে এ ধরনের ঘটনা কখনোই ভোলা উচিত না।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টেস্ট দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে ম্যাকাই। এই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্ট মাত্র দুদিনেই শেষ। প্রত্যেক ২৫ বল পরপর উইকেট পড়েছে ম্যাকাইতে। যার মধ্যে প্রথম দিনে পড়েছে ১৮ উইকেট। যদিও ম্যাকাই টেস্টের পিচ নিয়ে কোনো রেটিং দেয়নি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)। তবে উপমহাদেশের উইকেট হলে বেশির ভাগ সময় অসন্তোষজনক রেটিং দেওয়ার পাশাপাশি দেওয়া হয় ডিমেরিট পয়েন্টও। এমনকি পিচ ব্যাটিংবান্ধব হলেও ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেয় অসন্তোষজনক রেটিং।

আজ টেস্ট শেষে শান্ত যখন সংবাদ সম্মেলনে আসেন, তাঁর কাছে এসেছে ম্যাকাইয়ের পিচ নিয়ে প্রশ্ন। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘ধন্যবাদ প্রশ্নটা করার জন্য। আপনারাও একটু মনে রাইখেন, আমরাও মনে রাখলাম। সাধারণত যখন উপমহাদেশে খেলি, এক দিনে ১৮-১৯ উইকেট পড়লে অনেক কথাবার্তা হয়। একটা কথা বলতে চাই। যখন আমরা উপমহাদেশে খেলব, তখন যেন এই জিনিসগুলো ভুলে না যাই।’

ম্যাকাইতে টস হেরে আগে ব্যাটিং পেয়ে বাংলাদেশ ৩৪ ওভারে ৬৪ রানে গুটিয়ে যায়। একটা পর্যায়ে নিজেদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৩ রানের (২০১৮ সালে অ্যান্টিগা টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে) আগেও গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে শরীফুল ইসলাম-তাইজুল ইসলাম দশম উইকেটে ২৫ রানের জুটি গড়ায় বাংলাদেশ করতে পারে ৬৪ রান। প্রথম ইনিংসে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি।

৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ প্রথম দিনে ঘুরে দাঁড়ায় দারুণভাবে। সফরকারীদের আগুনে বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া সেই দিন শেষ করে ৮ উইকেটে ১৬৫ রানে। ম্যাকাইতে আজ হারের পর প্রথম দিনের কন্ডিশনের কথাও উল্লেখ করেছেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘প্রথম দিনে ১৮ উইকেট পড়েছিল। এটাও একটু সবার বুঝতে হবে। উইকেটটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং ছিল দেখেই কিন্তু ১৮ উইকেট পড়েছে। শুধু যদি এমন হতো আমাদের পড়েছে, ওদের পড়েনি, তাহলে বুঝতাম।’

প্রথম ইনিংসে ১৪ রান করা শরীফুল বোলিংয়ে আগুন ঝরিয়েছেন। ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটাও নিজের করে নিলেন তিনি। যে ৭ উইকেট নিয়েছেন, তার মধ্যে তিনটি করে বোল্ড ও এলবিডব্লিউ। তাঁর একটা উইকেটে ক্যাচ ধরেছেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। ৬৭ রান করা গ্রিন তো বটেই, মারনাস লাবুশেন, ট্রাভিস হেড, প্যাট কামিন্স, স্টিভ স্মিথ, বিউ ওয়েবস্টার, মিচেল স্টার্ক—প্রত্যেকেই শরীফুলের কাছে হার মেনেছেন।

বাজে হারের দিনও সতীর্থ বোলারদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘তারা (অস্ট্রেলিয়া) যেভাবে ব্যাটিং করেছে এবং আমাদের বোলাররা যেভাবে বোলিং করেছে, তা দেখলে বুঝবেন কতটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। এরকম চ্যালেঞ্জ থাকবেই। একজন ব্যাটার হিসেবে আমাদের এটা মেনে নিতে হবে।’

ডারউইনে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জেতার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের সামনে। অজিদের ডেরায় ২-০ ব্যবধানে জিতলে সামাজিক মাধ্যম সয়লাব হয়ে যেত শান্ত-মিরাজদের প্রশংসার বন্যায়। কিন্তু ম্যাকাইতে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে সিরিজ জেতা আর সম্ভব হয়নি।

দ্বিতীয় টেস্টের পারফরম্যান্স নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শান্তর কাছে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি যেমন মজা করেছেন, একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ারও প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সাংবাদিকদের শান্ত বলেন, ‘আপনারা কি ভুলে গেছেন প্রথম টেস্ট (হাসি)? আমি তো ভুলিনি। আমার মনে হয় দেশের মানুষও ভোলেনি। অনেক বড় অর্জন। তবে এই ম্যাচটা আমরা ভালো ক্রিকেট খেলিনি। একটা জিনিস বুঝতে হবে যে আমরা কোন দলকে হারিয়েছি। তারা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, টসে জিতে ফিল্ডিংও নিল। সাধারণত তারা এটা করে না। অনেক জায়গায় শুনেছি।’

ম্যাকাইতে ভরাডুবির পরও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আগের মতোই চার নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর শান্তর দলের সফলতার হার এখন ৫৫.৫৬ শতাংশ। ৬ ম্যাচে ৩ জয়, ২ হার ও ১ ড্রয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪০।