ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া খেলছে দাপট দেখিয়ে। নিজেদের ডেরায় সবশেষ ১৫ টেস্টের ১১টিতে জিতেছে অজিরা। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, ট্রাভিস হেডরা ঘরের মাঠে দুর্দান্ত। তবে তারকা ক্রিকেটারদের নাম শুনে ভয় পেতে না করছেন বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ আশিক মজুমদার।
বাংলাদেশ সবশেষ জুনে টেস্ট খেললেও সাদা পোশাকে অস্ট্রেলিয়া খেলেছে আরও আগে। এ বছরের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্টটাই অজিদের সবশেষ কোনো টেস্ট। সেই অ্যাশেজে ৪-১ ব্যবধানে জিতে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে এখন অজিরা। ৬২৯ রান করে এই সিরিজে সর্বোচ্চ রান করেন ট্রাভিস হেড। তিন ফিফটির তিনটিকেই সেঞ্চুরিতে পরিণত করেন তিনি। গড় ও স্ট্রাইকরেট ৬২.৯০ ও ৮৭.৩৬। স্টার্ক এই সিরিজে বোলিংয়ে ৩১ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১৫৪ রানে। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে পেয়েছেন সিরিজসেরার পুরস্কারও।
স্টার্কের পাশাপাশি প্যাট কামিন্স-জশ হ্যাজলউডকে নিয়েও চলছে আলোচনা। যেহেতু অস্ট্রেলিয়ায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পেস সহায়ক উইকেটে খেলা হয়। ডারউইনের রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে আজ যখন আশিক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন, তখন কামিন্স-হ্যাজলউডদের প্রসঙ্গ এসেছে। ক্রিকেটারদের নাম নাকি পুরো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ—উত্তরে বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ বলেন, ‘আসলে খেলাটা হলো কোকাবুরা বলে। এখানে নামের কোনো পরিচয় নেই। আর আপনারা দেখবেন আমাদের ক্রিকেটাররা অনেক অভিজ্ঞ।’
নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট এবং এ বছর পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই—টানা চার টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছে এই সময়েই। সবগুলো ম্যাচ জিতেছে ঘরের মাঠেই। এবার অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দীর্ঘ ২৩ বছর পর টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিমদের অস্ট্রেলিয়ায় খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও এখানে কোনো টেস্টই খেলেননি তাঁরা। তবু শিষ্যদের নিয়ে আশাবাদী আশিক। ফিল্ডিং কোচ বলেন, ‘আপনারা দেখবেন আমাদের ক্রিকেটাররা অনেক অভিজ্ঞ। অনেক দিন ধরেই টেস্ট খেলছে এবং তারা জানে কাকে কীভাবে কখন মোকাবিলা করতে হয় এবং কীভাবে ক্রিকেটটা খেলতে হয়।’
জুনে জিম্বাবুয়ের কাছে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। হারারেতে মাত্র আড়াই দিনে শেষ হয়ে যায় এই টেস্ট। ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংসে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ কদিন আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) একাদশের কাছেও ধরা খেয়েছে। তুলনামূলক অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া সিএ একাদশ বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৩৮ রানে হারিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমান টেস্ট সিরিজের দলে থাকা শান্ত-মুশফিকদের ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকই হয়নি।
জিম্বাবুয়ে সিরিজের দুঃখ ভুলে এখন সামনে এগোনো উচিত বলে মনে করেন আশিক। ডারউইনে আজ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ বলেন, ‘আমি আসলে বলব যে সামনে তাকানোটাই ভালো। পেছনে কী হয়েছে, সেটা অতীত হয়ে গেছে। আলহামদুলিল্লাহ, দেখা যাক সামনে কী হয়। আমাদের ক্রিকেটাররা মানসিকভাবে প্রস্তুত টেস্টে লড়াই করতে। ক্রিকেট আপনারা জানেন যে এটা গোল বলের খেলা। এখানে আমরা মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে দুইভাবেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এটা দেখা যাবে মাঠে।’
ডারউইনে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট দ্বিতীয় তথা শেষ টেস্ট খেলতে নামবে দুই দল। আট ম্যাচে সাত জয়ে ৮৭.৫০ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে সবার ওপরে অস্ট্রেলিয়া। এই চক্রে চারে থাকা বাংলাদেশের সফলতার হার ৫৮.৩৩ শতাংশ।