টর্নেডো, সাইক্লোন, সুনামি—আজ অভিষেক শর্মা ওয়েলিংটনে যা করেছেন, তা ব্যাখ্যাতীত। তাঁর তাণ্ডবে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েন। কাইল জেমিসন, জ্যাকব ডাফি, ম্যাট ফিশারদের পাড়ার বোলার বানিয়ে অভিষেক তুলে নেন বিধ্বংসী সেঞ্চুরি। ভারতও দু্ই ম্যাচ আগেই জিতে যায় সিরিজ।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজ জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় ভারত। সিরিজ জিততে হলে কিউইদের বরং জিততে হতো শেষ তিন ম্যাচ। কিন্তু কোণঠাসায় পড়া নিউজিল্যান্ডকে আজ ওয়েলিংটনে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। ৬ উইকেটের সহজ জয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখে জিতে গেল পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্যে নেমে পাওয়ারপ্লেতেই জয় অনেকটা নিশ্চিত করে ফেলে ভারত। অভিষেক-বৈভব সূর্যবংশীর তাণ্ডবে প্রথম ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ১১৮ রান করে ফেলে সফরকারীরা। ভারতের এমন ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল ভিডিও গেমস চলছে। দুই ওপেনার ৪৪ বলে ১৩৩ রানের জুটি গড়েন।
অষ্টম ওভারের প্রথম বলে সূর্যবংশীকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ম্যাট ফিশার। ১৯ বলে চারটি করে চার ও ছক্কায় ৪৫ রান করেন সূর্যবংশী। এই বাঁহাতি ওপেনার ফিরলেও অভিষেক তাঁর তাণ্ডব চালিয়ে যান। ৩৫ বলে তুলে নেন তাঁর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি।
দ্বিতীয় উইকেটে সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে ১৮ বলে ৪৫ রানের আরও একটি বিস্ফোরক জুটি গড়ে ভারতের জয় অনেকটা নিশ্চিত করেন অভিষেক। দশম ওভারের শেষ বলে অভিষেককে ফেরান কাইল জেমিসন। ৩৮ বলে ৯ চার ও ১১ ছক্কায় ১১৩ রান করে আউট হয়েছেন। পরবর্তীতে স্যামসন (১৮), আইয়ার (১) আউট হলেও ভারতের জয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। ৪০ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
সেঞ্চুরি করায় অভিষেক চাইলে মিচেল স্যান্টনারকে ধন্যবাদ দিতে পারেন। অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে ফিশারকে তুলে মারতে যান অভিষেক। আকাশে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকা বল স্যান্টনার এক্সট্রা কাভারে দাঁড়িয়েও ধরতে পারেননি। অভিষেকের রান তখন ৯২। ভারতের দ্বিতীয় উইকেট পড়ত ১৪৮ রানে। তবে স্যান্টনারের ভুলের সুযোগ কাজে লাগান অভিষেক। ভারতের আয়েশী জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন অভিষেক।
প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির মতো আজ তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া নিউজিল্যান্ড ১.২ ওভারে ১ উইকেটে ৪ রানে পরিণত হয়। টিম সাইফার্টকে (২) ফেরান আর্শদীপ সিং। দ্বিতীয় উইকেটে ৪৩ বলে ৮৬ রানের জুটি গড়েন ড্যারিল মিচেল ও ফিন অ্যালেন।
এই জুটিই নিউজিল্যান্ডের ২০০ ছুঁইছুঁই স্কোর করতে সহায়তা করে। চতুর্থ উইকেটে মিচেল এরপর বেভন জ্যাকবসের সঙ্গে ৪৮ বলে ৭৫ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়তে সহায়তা করেন। কিউইরা ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৮ রান করেছে। ৫২ বলে পাঁচটি করে চার ও ছক্কায় ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন মিচেল। ভারতের আর্শদীপ সিং, অক্ষর প্যাটেল, নিতিশ কুমার রেড্ডি একটা করে উইকেট নিয়েছেন।