টানা বৃষ্টির কবলে পড়লেও নিশিনে আজ বাংলাদেশ-পাকিস্তান সেমিফাইনালটা হয়েছে ঝকঝকে রোদেই। তবু ম্যাচটা পুরোপুরি টি-টোয়েন্টি ছিল না। ১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে নবম ওভার পর্যন্ত বাংলাদেশ ম্যাচে ছিল। তবে মোস্তাফিজুর রহমান এক ওভারে ২৩ রান দিয়ে ম্যাচটা একরকম পাকিস্তানকে উপহার দিয়ে আসেন। লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ছেলেদের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান।
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সফলতা বাংলাদেশ পেয়েছিল ২০১০ সালে। আফগানিস্তানকে হারিয়ে সেবার সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার জাপানে যাওয়ার আগে লিটন ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। ১৬ বছর পর সেই সুযোগ তৈরিও হয়েছিল। কিন্তু মোস্তাফিজের ১ ওভারেই হয়ে গেল সর্বনাশ। নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস ক্লাবে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে অধরাই রয়ে গেল ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন। লিটন-মোস্তাফিজদের এখন খেলতে হবে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে।
১৩ ওভারে ১১২ রানের লক্ষ্যে নামা পাকিস্তান রান তোলার পাশাপাশি নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৬.১ ওভারে ৪ উইকেটে ৫৩ রানে পরিণত হয় পাকিস্তান। ড্রেসিংরুমে ফেরা প্রথম চার ব্যাটারের মধ্যে একমাত্র অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান (১) ছাড়া বাকিরা সবাই দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন। সাইম আইয়ুব ১২ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ২১ রান করেন।উসমান খান ৯ বলে করেন ১৪ রান। ২১৪.২৮ স্ট্রাইকরেটে মাজ সাদাকাত করেন ১৫ রান।
চাপে পড়া পাকিস্তানের হাল ধরেন আব্দুল সামাদ ও হাসান নাওয়াজ। তবু তাঁরা যে স্বচ্ছন্দে খেলতে পারছিলেন, ব্যাপারটা তেমনও নয়। ৯ ওভারে ৪ উইকেটে ৭৬ রান করে পাকিস্তান। হাতে ৬ উইকেট থাকলেও শেষ চার ওভারে ওভারপ্রতি ৯ রানের সমীকরণের সামনে এসে পড়ে দলটি। বর্তমান টি-টোয়েন্টিতে এমনটা অসম্ভব না হলেও প্রতিপক্ষ দলের একটা ভালো ওভারই পাল্টে দিতে পারে দৃশ্যপট। কিন্তু মোস্তাফিজকে পিটিয়ে পাকিস্তান সমীকরণটা ৩ ওভারে ১৩ রানে নিয়ে এল।
দশম ওভারে বোলিংয়ে আসা মোস্তাফিজের প্রথম বল থেকে সিঙ্গেল নিলেন নাওয়াজ। বাকি পাঁচ বলে তাণ্ডব চালিয়েছেন সামাদ। দ্বিতীয় বলে ছক্কা মেরে সামাদের শুরু। পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ব্যাটার এরপর টানা চারটি চার মেরেছেন। হাতের নাগালে নিয়ে আসা ম্যাচের ইতি টেনেছেন নাওয়াজ। ১২তম ওভারের তৃতীয় বলে রিশাদের ফুলটস সোজা বোলারের মাথার ওপর দিয়ে নাওয়াজ চার মারেন। ৯ বল আগেই পাকিস্তান কেটে ফেলে ফাইনালের টিকিট।
বাংলাদেশ সময় আজ সকাল ৬টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তান সেমিফাইনাল। কিন্তু ভেজা আউটফিল্ডের কারণে ৭৫ মিনিট দেরিতে খেলা শুরু হয়। ম্যাচের দৈর্ঘ্য ৭ ওভার কমে নেমে আসে ১৩ ওভারে। টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া বাংলাদেশ ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে করে ১১৩ রান। মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয়ের ২৫ বলে ৪২ রানের ইনিংসটাই দলকে ১১৩ পর্যন্ত যেতে সহায়তা করে। ২ চার ও ৪ ছক্কা মেরেছেন তিনি। পাকিস্তানের সুফিয়ান মুকিম ৩ ওভারে ২৬ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।
১১৩ বলের লক্ষ্যে নেমে ৯ বল হাতে রেখে পাকিস্তান ৬ উইকেটে জিতে যায়। ইনিংস সর্বোচ্চ ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন সামাদ। ১৫ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কা মেরেছেন। বাংলাদেশের শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজ ও নাসুম একটা করে উইকেট নিয়েছেন।
পাকিস্তান যেখানে খেলবে সোনা জয়ের আশায়, বাংলাদেশের খেলতে হবে সান্ত্বনার ব্রোঞ্জ পাওয়ার লক্ষ্যে। বর্তমানে কোরোগি স্পোর্টস ক্লাবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলছে ভারত-শ্রীলঙ্কা।