এই বিপিএলই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির টুর্নামেন্ট। ৩৪ ম্যাচের চলতি বিপিএলে এরই মধ্যেই হয়ে গেছে অর্ধেকের বেশি, ২০টি ম্যাচ। তো এ পর্যায়ে এসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশ দলে থাকা ক্রিকেটারদের প্রস্তুতিটা কেমন হলো?
ভালো, মোটামুটি ভালো, ভালো না, খারাপ—এই চার শ্রেণিতে রেটিংয়ের সুযোগ থাকলে অনেকেই ‘ভালো না’-ই বেছে নিতেন। এই বাক্য কেউ কেউ আপত্তি তুলতে পারেন। চলতি বিপিএলে ২৩৬ রান নিয়ে অ্যাডাম রসিংটনের (২৫৮) পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩৬ রান পারভেজ হোসেন ইমনের। ১৩টি উইকেট নিয়ে সেরা উইকেটশিকারী বিশ্বকাপ দলে থাকা শরীফুল ইসলাম, ১২ টি উইকেট নিয়ে শরীফুলের পরই আছেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু হাতে গোনা এই কয়েকজনের নাম বাদ দিলে বিশ্বকাপ দলে থাকা বাকিদের পারফরম্যান্স কি! হতাশ হতে হয় এখানেই। বিপিএলের ২০ ম্যাচ শেষে বেশি রান করা ১০ ব্যাটারের তালিকায় একমাত্র পারভেজ হোসেন ইমন ছাড়া নেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে থাকা আর কারও নাম। ১২৯ রান নিয়ে এই তালিকার ১১ নম্বরে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস। কিন্তু রান সংগ্রহে তার ওপরে আছেন অনেক আগেই জাতীয় দলের ব্রাত্য হয়ে পড়া নাসির হোসেন (১৩৪) কিংবা জাতীয় দলে জায়গা না পাওয়া আফিফ হোসেন (১৫৩), মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনরা (১৫৫)।
ব্যাটিংয়ে ২০০ কিংবা তারচেয়ে বেশি রান করেছেন ৪ ব্যাটার। এই তালিকায় জাতীয় দল থেকে আছেন কেবল সিলেট টাইটানসে খেলা পারভেজ হোসেন ইমন। তবে তাঁর স্ট্রাইকরেট শীর্ষে থাকা রসিংটন (১৩৯.৪৫) কিংবা তিন নম্বরে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর (১৩৯.৭৩) চেয়ে কম—১৩১.১১।
এখানেই শেষ নয়, বিপিএলের হয়ে যাওয়া ২০ ম্যাচের ১১টিতেই ম্যাচসেরা হয়েছেন বিদেশি ক্রিকেটার। ৯টি দেশি ক্রিকেটার। এই দেশি ম্যাচসেরাদের তালিকায় বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টির বাংলাদেশ দল থেকে আছেন শুধুমাত্র একজন—নাসুম আহমেদ।
বোলিং ১৩ ও ১২ উইকেট নিয়ে শরীফুল, মোস্তাফিজ ওপরের দিকে থাকলেও ভালো ফর্মে নেই তাসকিন আহমেদ। পাঁচ ম্যাচে তাঁর শিকার মাত্র ৩ উইকেট; ইকোনমি ৯.৭৭। অলরাউন্ডার সাইফ হাসানও নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ (৪৮ রান, ২)। তাঁর তুলনায় শেখ মেহেদীর পারফরম্যান্স ভালো—১০১ রান করার পাশাপাশি ৭ উইকেট তাঁর।
ঘরের মাঠে চিরচেনা মাঠ ও কন্ডিশনে এই যদি হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স, তাহলে দেশের বাইরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো করতে লড়াই করতে হবে তাঁদের। তাঁদের সে লড়াইটা বিপিএলের পরের অংশে দেখা যাবে কি!
সবচেয়ে বেশি রান করা রসিংটন এবং বেশি উইকেট পাওয়া শরীফুল দুজনই চট্টগ্রাম রয়্যালসের। ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলেরও শীর্ষে চট্টগ্রাম। শুক্রবার রাজশাহীর বিপক্ষে সিলেটে ব্যাটিংয়ের সময় আঙুলে চোট পেয়েছেন রসিংটন, ছিটকে পড়েছেন টুর্নামেন্ট থেকে। তাঁকে ছাড়াই বিপিএলের পরের অংশ বড় পরীক্ষা দিতে হবে চট্টগ্রাম রয়্যালসেও।