গতির সঙ্গে বাউন্সারে ব্যাটারদের কাবু করতে নাহিদ রানার সুনাম রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মটা তাঁর পক্ষে কথা বলছিল না। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে তাঁর আগুনে বোলিংয়ে চোখে সর্ষেফুল দেখছে পাকিস্তান।
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। শুরুটা ধীরস্থিরভাবে করলেও হঠাৎই খেই হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৭.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ৬৯ রান করেছে সফরকারীরা। পাঁচ উইকেটের পাঁচটিই নিয়েছেন নাহিদ রানা।
ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া তো দূরে থাক, নাহিদ রানার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম পাঁচ ম্যাচ মিলিয়ে সর্বসাকল্যে তাঁর ছিল ৫ উইকেট। আজ মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে নিজের প্রথম পাঁচ ওভারেই ৫ উইকেট নিয়েছেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং আজই করেছেন রানা।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান ওয়ানডে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি জানিয়েছিলেন, তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের অভিষেক হবে। তবে অভিষেক হয়েছে চার পাকিস্তানি ক্রিকেটার। সাহিবজাদা ফারহান, শামাইল হুসাইন, মাজ সাদাকাত, আবদুল সামাদ—অভিষিক্ত এই চার ক্রিকেটারের মধ্যে শুধু ফারহানের পাকিস্তানের জার্সি পরার অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছে। আজ ফারহান-সাদাকাত ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৬০ বলে ৪১ রানের জুটি গড়েছেন।
ধীরস্থির গতিতে এগোতে থাকা পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে ধসের সূচনা করেন নাহিদ রানা। দশম ওভারের শেষ বলে রানার অফস্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে কাট করতে যান ফারহান। পয়েন্টে সহজ ক্যাচ তালুবন্দী করেন আফিফ হোসেন ধ্রুব।৩৮ বলে ৪ চারে ফারহান করেছেন ২৭ রান।
দলীয় ৪৪ রানেই পাকিস্তান হারাতে পারত দ্বিতীয় উইকেট। ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মিরাজকে তুলে মারতে যান শামাইল। বল যখন আকাশে তখন লং অফ থেকে দৌড়ে আসছিলেন তানজিদ হাসান তামিম এবং তাওহীদ হৃদয় লং অন থেকে দৌড়ে আসছিলেন। তবে কেউই ক্যাচ ধরতে পারেননি। যদিও ২ রানে জীবন পাওয়া শামাইল আউট হয়েছেন ৪ রানে। রানার শর্ট পিচ বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের তালুবন্দী হয়েছেন শামাইল।
ফারহান-শামাইলের পর শর্ট বলে রানা ঘায়েল করেছেন মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগাকে। যেখানে সালমানের উইকেটে রানার চেয়ে অবদান বেশি তানজিদ হাসান তামিমের। ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে রানাকে পুল করতে যান সালমান। শর্ট লেগে কয়েকবারের চেষ্টায় বল তালুবন্দী করেন তানজিদ তামিম। তাতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন রানা। সবেমাত্র উইকেটে এসেছেন আবদুল সামাদ। হুসেইন তালাত উইকেটে এসেও রানের খাতা খুলতে পারেননি।