রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হয় না ১৩ বছর ধরে। মাঠের পারফরম্যান্সেও তেমন লড়াই দেখা যায় না। বরং অন্যান্য ঘটনায় বেশি আলোচনা ছড়ায় এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচ নিয়ে। সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের কাছে এখন ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের কোনো মানেই নেই।
দ্বিপক্ষীয় সিরিজ না হওয়ায় এশিয়া কাপ ও আইসিসি ইভেন্ট ছাড়া ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়ার কোনো সুযোগ এখন নেই। সবশেষ ১২ ম্যাচের মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে দুটিতে। ভারত জিতেছে ৯ ম্যাচ। এক ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। ম্যাচ মাঠে গড়ানোর আগেই যেন এক রকম অনুমান করা যায়, ভারত হারিয়ে দেবে পাকিস্তানকে। ভারত-পাকিস্তানের একতরফা লড়াই নিয়ে নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে গত রাতে এক ভিডিও বার্তায় মাঞ্জরেকার বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো প্রতিপক্ষ আছে। এই ম্যাচগুলো এখন দেখার মতো। এ ধরনের দলকে ভারত হারালে আমরা গর্ব অনুভব করি। নব্বইয়ের দশকে ভারত যদি পাকিস্তানকে হারাত, তখন হয়তোবা আপনাদের ভালো লাগত। কিন্তু এখন যখন পাকিস্তানকে হারায় ভারত, তখন মনে হচ্ছে কোনো পুঁচকে দলকে ভারত হারাচ্ছে।’
ভারতের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাবটা যদি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে সাম্প্রতিক সময়ে বড় টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের তেমন কোনো সাফল্য নেই বললেই চলে। ২০২২ ও ২০২৫ সালে এশিয়া কাপে রানার্সআপ হয়েছে পাকিস্তান। যেখানে ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো হয়েছে ভারত-পাকিস্তান এশিয়া কাপ ফাইনাল। তার আগে ২০২৩ এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠতে পারেনি দলটি। আর ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানার্সআপ পাকিস্তান পরেরবার (২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ) বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই। এ ছাড়া ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি—আইসিসির ওয়ানডে সংস্করণের এই দুই ইভেন্টে রানার্সআপ হয়েছে এশিয়ার এই দুই দল।
পাকিস্তান যেখানে ধুঁকছে, ভারত সেখানে দাপট দেখিয়ে খেলছে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি—আইসিসির সবশেষ দুই সাদা বলের টুর্নামেন্টেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। বিরাট কোহলি, শুবমান গিল, রোহিত শর্মারা বড় মঞ্চে কীভাবে জ্বলে উঠতে হয়, সেটার প্রমাণ দিয়েছেন। চোটে পড়ায় ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জসপ্রীত বুমরা না খেললেও খুব একটা সমস্যা হয়নি ভারতের। দুই প্রতিবেশীর ক্রিকেটীয় কাঠামো তুলনা করতে গিয়ে মাঞ্জরেকার বলেন, ‘বোঝাই যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেটের কী অবনতি হয়েছে। এশিয়া কাপেও দেখেছি আমরা। ভারতের ক্রিকেট কাঠামোতে তরুণরা কীভাবে তৈরি হয় আর পাকিস্তানের তরুণরা কীভাবে ক্রিকেটে আসে, দেখলেই বোঝা যাবে। আকাশ-পাতাল তফাত এখানে।’
১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকারের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়, ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি পাকিস্তান বয়কট করবে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেখানে আইসিসির সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁস, যে ম্যাচকে ঘিরে এত আয়োজন, সেই ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা আসায় এটা নিয়ে আলোচনা চলছে গত দুই দিন ধরে। মাঞ্জরেকারের কাছে এখন ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের গুরুত্ব অনেক কমে গেছে। ভারতীয় ধারাভাষ্যকার বলেন, ‘যদি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হয়, আমার কাছে কোনো যায় আসে না। সত্যি বলতে দীর্ঘ একটা সময় ধরে দেখছি এবং আপনারাও এটা খেয়াল করেছেন, আসল ম্যাচে তেমন কোনো হাইপ ও নাটকীয়তা দেখা যায় না, যেটা আগে আমরা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে দেখতাম।’
বিশ্বকাপ শুরু হতে যখন এক সপ্তাহও বাকি নেই, তখন ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হওয়ায় মহা দুশ্চিন্তায় আইসিসি। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচের বাজারমূল্য ৫০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটা ৬ হাজার ১৫০ কোটি ২১ লাখ টাকা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ১০ সেকেন্ড বিজ্ঞাপনের জন্য আইসিসির ক্ষতি হবে ৫৪ লাখ টাকা। সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানেরও ৪০৩ কোটি টাকার লোকসান হবে। এমনকি বিসিসিআই, পিসিবি দুই বোর্ডেরই ২৬৯ কোটি টাকা রাজস্ব হারানোর শঙ্কা রয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। ডিজিটাল মার্কেটিং খাতেও যে কোটি কোটি টাকা লোকসান হবে, সেটা না বললেও চলছে। এমন অবস্থায় আইসিসি জরুরি বৈঠক ডেকেছে বলে ভারত ও পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে। আজ-কালের মধ্যে হতে পারে আইসিসির এই বৈঠক।