ভালো অবস্থায় নেই ইতালির ফুটবল। টানা তিনবার বিশ্বকাপে খেলতে না পারা ইতালিকে ধুয়ে দিচ্ছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। ফেডারেশনে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। যার মধ্যে রয়েছেন প্রধান কোচ জেনারো গাত্তুসোও। এই মুহূর্তে আলোচনায় ইতালির কিংবদন্তি কোচ সিমিওনে ইনজাগি। যদিও ইতালির কোচের দায়িত্ব নেবেন কি না, সে ব্যাপারে কিছু খোলাসা করেননি।
ইন্টার মিলানের কোচ হিসেবে ২০২৩-২৪ মৌসুমের সিরি ‘আ’ জিতেছেন ইনজাগি। দুইবার ইতালিয়ান কাপ ও তিনবার সুপারকোপা ইতালিয়া ইন্টারকে জিতিয়েছেন তিনি। তাঁর অধীনে ইতালি দুইবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালও খেলেছে। সবশেষ ২০২৪-২৫ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে ৫-০ গোলে হারের পর ইন্টারের কোচের দায়িত্ব ছাড়েন ইনজাগি।
ইন্টার মিলান ছেড়ে গত বছরই সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালের কোচ হয়েছেন ইনজাগি। আজ ৫০ বছর পূর্ণ করা ইনজাগি ইতালিয়ান এক সংবাদমাধ্যমকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সৌদিতে থাকা এই কিংবদন্তির কি দেশের জন্য মন কাঁদছে—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাড়ির জন্য মন খারাপ? এই মুহূর্তে আমি মোটেও তেমন কিছু অনুভব করছি না। এখানে (সৌদি আরব) আমি শুধু ভালোই থাকছি না—এর চেয়েও বেশি কিছু।’
২০১৬ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৯ বছর ইতালির দুই ক্লাব লাৎসিও এবং ইন্টার মিলানের কোচিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন ইনজাগি। সৌদি আরবেও প্রায় এক বছরই কাটিয়ে দিয়েছেন তিনি। মরুর দেশে সময়টা ভালো যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইনজাগি। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবে আমি সব দিক থেকেই একটি অসাধারণ পরিবেশ পেয়েছি। জীবনযাপন, খেলাধুলা ও খেলাধুলার বাইরের অবকাঠামো এবং সেই প্রশান্তি—যা এমন কাজের মধ্যেও আপনার সঙ্গে থাকে।’
ইতালি টানা তিনবার বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় পদত্যাগের হিড়িক লেগেছে। ২ এপ্রিল রাতে ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রধান গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনার পাশাপাশি সরে দাঁড়ালেন জিয়ানলুইজি বুফন। বুফন ছিলেন ইতালির জাতীয় দল ডেলিগেশনের প্রধান। ঠিক তার পরের দিন পদত্যাগ করেছেন প্রধান কোচ জেনারো গাত্তুসো।
২০১৭ সালে সুইডেনের কাছে প্লে–অফে হেরে ২০১৮ বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি ইতালির। উত্তর মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে হারে কাতার বিশ্বকাপেও (২০২২ সাল) খেলা হয়নি আজ্জুরিদের। এবার ইতালি হেরে বসল বসনিয়ার কাছে। যেখানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইতালি অবস্থান করছে ১২ নম্বরে। আর বসনিয়া র্যাঙ্কিংয়ে ৬৫তম দল। মূল ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে হেরে যায় ইতালি। আজ্জুরিদের তাই অপেক্ষা করতে হবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।