নিজেকে আলোচনায় রাখতেই যেন বেশি পছন্দ মোহাম্মদ আমিরের। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে নিয়ে একের পর এক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। যদিও সেগুলো বিফলে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত-সমর্থকদের বিদ্রূপের শিকার হয়েছিলেন তিনি। এবার বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম ওয়ানডের পর আলোচনায় আমির। বাজে পারফরম্যান্সে তোপ দেগেছেন পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার।
মিরপুরে গতকাল বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের প্রথম ওয়ানডের ফল প্রথম ইনিংস শেষেই বোঝা গেছে। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে শেষ পাকিস্তান। অল্প রানে আটকে রেখে ১৫.১ ওভারে ২ উইকেটে ১১৫ রান করে ফেলে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। বাজে হারের পর নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ম্যাচ নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিয়েছেন আমির। পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার বলেন, ‘পাকিস্তান ১১৪ রানে গুটিয়ে গেছে। নাহিদ রানা ৫ উইকেট নিয়েছে। ৩ উইকেট পেয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজ। যে উইকেটে আমরা ১১৪ রান করলাম, একই উইকেটে বাংলাদেশ ১০-১২ ওভারে (১৫.১ ওভারে) খেলা শেষ করে দিল। আমাদের খুব মজা করেই পিটিয়েছে বাংলাদেশ।’
পাকিস্তান যেন নাহিদ রানার প্রিয় প্রতিপক্ষ। ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে যে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করেছে, সেই সিরিজে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। যার মধ্যে এক ইনিংসে পেয়েছেন ৪ উইকেট। আর গতকাল মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৭ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নেন রানা। হয়েছেন ম্যাচসেরাও। পাকিস্তানের সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন প্রশংসায় ভাসিয়েছেন রানাকে।
রানা গতকাল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪৮.৩ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেছেন। পাশাপাশি ছিল বাউন্সারও। সাহিবজাদা ফারহান, শামাইল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, সালমান আলী আগা—এই চার ব্যাটারকে শর্ট বলে আউট করেছেন রানা। আর মোহাম্মদ রিজওয়ানকে লাগাতার শর্ট বলের পর লেংথটাকে পরিবর্তন করে উইকেট পেয়েছেন। রানার প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি আমিরও। নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তানের সাবেক বাঁহাতি পেসার বলেন, ‘রাওয়ালপিন্ডিতে এর আগে রানার বোলিং দেখেছি। ঘণ্টায় নিয়মিত ১৩৫-১৪০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে। আজও সে দারুণ খেলেছে।’
মিরপুরের উইকেট ‘ধানখেতের উইকেটে’র তকমা পেয়েছে অনেক আগেই। স্পিন ট্র্যাক বানিয়ে প্রতিপক্ষকে বাংলাদেশ ঘায়েল করে থাকে হরহামেশাই। তবে গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররাই। নাহিদ রানার ৫ উইকেটের পাশাপাশি একটি করে উইকেট পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। ঘূর্ণিজাদুতে ৩ উইকেট নিয়েছেন অধিনায়ক মিরাজ।
ম্যাচ নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে পাকিস্তানকে গত রাতে শুধু খোঁচাই দিয়ে গেলেন আমির। পাকিস্তানের এই তারকা পেসার বলেন, ‘আমরা ঘূর্ণি উইকেটের প্রত্যাশা করেছিলাম। আর তারা তৈরি করল পেসবান্ধব উইকেট। পাকিস্তানের কাছে সেটা সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন আসার মতোই। আবারও বলছি, পাকিস্তানকে কোনো স্পিনবান্ধব উইকেট দেবে না বাংলাদেশ। সিরিজ জেতার জন্য এটাই করবে (পেসবান্ধব উইকেটে ম্যাচ)।’
২০৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জিতে আট বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে জিতল বাংলাদেশ। এর আগে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ২০১৮ এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের অপর দুই ওয়ানডে হবে আগামীকাল ও রোববার।