জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট
আসন ভাগাভাগি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এই অবস্থায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫৩ আসনে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ঝুলে থাকল ৪৭টি আসন। তিনটি দলের আসনের ভাগ জানানো হয়নি। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দল তিনটি হলো—বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।
রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ১১ দলীয় জোটের মধ্যে আট দলের কে কতটি আসনে লড়বে, তা জানান।
ঘোষণা অনুযায়ী, জোটের সবচেয়ে বড় দল জামায়াত ১৭৯টি আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি, এবি পার্টি ৩টি এবং ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২টি আসনে জোটের পক্ষে ভোটে লড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, যাঁকে যেখানে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা ১১ দলের প্রার্থী।
এই নির্বাচন হবে অস্তিত্ব রক্ষার নির্বাচন মন্তব্য করে মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর এই নির্বাচন ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি ও সংস্কারের পক্ষের একটি নির্বাচন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সব মতকে ধারণ করে এত বড় জোট এর আগে কখনো হয়নি। “এক বাক্সে ভোট” নীতিতে আমরা একসঙ্গে থাকব। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘কয়েকটা আসনে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি, তা জানানো হবে। ইসলামী আন্দোলন এখানে আজ আসেনি। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। আমরা আশা করছি, তারা শিগগির তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।’
গতকাল দুপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছাড়াই জরুরি বৈঠক করেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের নেতারা। আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় ইসলামী আন্দোলনের নেতারা ওই বৈঠকে যাননি। জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাকি ১০ দলের নেতাদের নিয়ে ওই বৈঠক হয়। সেখানে আসন সমঝোতায় কোন দল কত আসন পাবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়। বাকি ৪৫-৫০টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার মত দেওয়া হয়।
পরে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন শুরুর নির্ধারিত সময়ের পর পৌনে এক ঘণ্টা ইসলামী আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করা হয়। এরপর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ রেজাউল করীমের জন্য আসন বরাদ্দ রাখলেও তিনি না আসায় আসনটিতে বসেন মামুনুল হক।
উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আব্দুর কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির আনোয়ারুল হক, এনসিপি নেতা ও সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রমুখ।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন আজ শুক্রবার বেলা ৩টায় জোটের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে। রাজধানীর পুরানা পল্টনে নিজেদের কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলন হবে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন দলের প্রচার সম্পাদক কে এম শরীয়াতুল্লাহ।