হোম > রাজনীতি

বাজেটে রাজনৈতিক দল ও জনগণের মতামত নেই: বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: আজকের পত্রিকা

অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দল ও জনগণের মতামত ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযোগ করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু বলেন, ‘দেশে এখন যেহেতু সংসদ বা গণতান্ত্রিক কোনো সরকার নেই, তাই আমরা আশা করেছিলাম অন্তর্বর্তী সরকার ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য স্থাপনের মাধ্যমে বাজেট প্রণয়ন করবে। সরকার চাইলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিতে পারত। বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী ও তরুণ প্রতিনিধিরাও অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু সেটি করা হয়নি।’

রাজনৈতিক দল ও জনগণের মতামত নিলে বাজেট প্রণয়ন একমুখী, অংশগ্রহণহীন ও গতানুগতিক ধারার হতো না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

আমীর খসরু আরও বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি প্রায় ‘ডাবল ডিজিট’। তা কমিয়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ করার কথা বলা হচ্ছে, যা বাস্তবসম্মত মনে হয় না। দারিদ্র্য বৃদ্ধির হারে লাগাম টানা যেত। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২৭ লাখের বেশি মানুষ আগের চেয়ে বেশি দরিদ্র হয়ে পড়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। সেটা এবারের বাজেটে ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা আগের সরকারের মতোই অবান্তর ও কাগুজে প্রবৃদ্ধি। খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে। অপর্যাপ্ত, ত্রুটিপূর্ণ, দুর্নীতিগ্রস্ত সামাজিক সুরক্ষা খাতে পেনশন ও কৃষি ভর্তুকি অন্তর্ভুক্ত করে বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু সামাজিক সুরক্ষার জন্য সরকারি বরাদ্দ অপর্যাপ্ত থেকে যাচ্ছে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমানো উদ্বেগজনক উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, কলেজ ও স্কুলগুলোকে পূর্ণাঙ্গ কর মওকুফের আওতায় আনা যেত। ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে শিক্ষার এসব ক্ষেত্রকে পূর্ণাঙ্গ কর মওকুফের আওতায় আনা হবে।

খসরু বলেন, অর্থনৈতিক কাঠামোর দুর্বলতা সমাধানে বাজেটে সুস্পষ্ট রূপরেখার প্রয়োজন ছিল। প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পথনকশা উপস্থাপন। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার দরকার ছিল। জরুরি ছিল ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি বিভিন্ন খাতে সহায়তার মাধ্যমে আরও নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি। বিশাল সুদের হারের সঙ্গে অতিরিক্ত কর ও শুল্ক শিল্পে বড় চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে, উৎপাদনশীল খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কর্মসংস্থানও কমতে পারে। মধ্য ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির ওপর আর্থিক চাপ বাড়লে অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। দারিদ্র্য বিমোচনের অগ্রগতিও থমকে যেতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান ও চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।

জামায়াতসহ ১১ দলের আসন সমঝোতা ঘোষণার প্রেস ব্রিফিং শেষ মুহূর্তে স্থগিত

জামায়াতের সঙ্গে আসন নিয়ে টানাপোড়েন, আজই চূড়ান্ত করবে ১১ দল

বাহরাইনের বাসায় অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল, ইসিকে ব্যবস্থা নিতে বলল বিএনপি

বিএনপি সংস্কারের পক্ষে, আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব: নজরুল ইসলাম খান

একটি দল বিশেষ উদ্দেশ্যে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান

জাপা, ১৪ দল ও এনডিএফের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল চায় ‘জুলাই ঐক্য’

পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষ মাঝখানে দেওয়া ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, সংশোধন চায় বিএনপি

রাজনীতিবিদেরা জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হলে গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়: আমীর খসরু

ছাত্র অধিকার পরিষদের ১৩৯ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা

সুনামগঞ্জ-১ ও ২: বিএনপির ‘জোড়া’ প্রার্থীতে দ্বিধা