৫৬তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের দিন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আয়োজিত অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতা-নেত্রী। গতকাল বুধবার রাত থেকে ফেসবুকে আলাদা পোস্ট দিয়ে অনুষ্ঠান বর্জনের কথা জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রের ছবি বুধবার রাতে ফেসবুকে পোস্ট করে সেখানে না যাওয়ার ঘোষণা দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম। এরপর আজ বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠান বর্জনের কথা জানান যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।
আজ সন্ধ্যায় বর্জনের ঘোষণা দিয়ে দলের যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ লেখেন, ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই হত্যাযজ্ঞের দোসর রাষ্ট্রপতিকে অভিসংশনের সব সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা না করার প্রতিবাদে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বর্জন করলাম।’
এর আগে আজ বিকেলে অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। দলের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম ফেসবুকে লেখেন, ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই হত্যাযজ্ঞের দোসর রাষ্ট্রপতিকে অভিসংশনের সকল সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা না করার প্রতিবাদে স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বর্জন করল বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।’
আজ বিকেলে বঙ্গভবনে এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তাঁর সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং অন্য বিশিষ্ট অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এদিন বঙ্গভবনে যান। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, শিল্পী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারের সদস্য ও বিশিষ্ট নাগরিকেরা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন।
এনসিপির মিডিয়া সেলের একজন সদস্য জানান, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় সবাই এই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। তবে তাঁর জানামতে, কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে এটা দলীয়ভাবে অনুষ্ঠান বর্জন নয়, কেউ কেউ নিজস্ব অবস্থান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, এনসিপি রাষ্ট্রপতিকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁর অভিশংসন এবং পরে তাঁকে গ্রেপ্তারেরও দাবি জানিয়ে আসছে।