জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো ‘হ্যাঁ’ নাকি ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেবে—তা নির্বাচনী ইশতেহারে লিপিবদ্ধ থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
আজ শনিবার প্রেসক্লাবে ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় কেমন নির্বাচনী ইশতেহার চাই’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘শুধু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন গণতান্ত্রিক উত্তরণ। এ জন্য আইনি ও কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে হবে। প্রতিবারই যেন সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’
রাজনৈতিক দলগুলোকে আইন মেনে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক না হলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না।’ রাজনৈতিক দলের সংস্কারের জন্য নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা দরকার বলে মন্তব্য করেন সুজন সম্পাদক।
বিগত নির্বাচনগুলোতে জয়ী প্রার্থীদের সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ক্ষমতার সঙ্গে জাদুর কাঠি রয়েছে। রাজনীতিবিদদের জানাতে হবে, ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যমে অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার যে সুযোগ, রাজনীতির ব্যবসায়ীকরণ ও ব্যবসায়ের রাজনীতিকরণের অবসান তারা কীভাবে ঘটাবেন।’
ড. বদিউল আলম বলেন, ‘নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ “দিনবদলের সনদ” নামে একটি চমৎকার ইশতেহার প্রকাশ করেছিল। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ তাদের সেই অঙ্গীকার ভুলে গেছে, যার মাশুলও দিতে হয়েছে দলটিকে। আমরা মনে করি, নির্বাচনী ইশতেহার ভোটারদের সঙ্গে দলগুলোর একটি চুক্তি। এই চুক্তি অমান্য করলে যেন নাগরিকদের আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকে। মানুষ যেন প্রশ্ন করার সুযোগ পায় যে দলগুলো তাদের অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়ন করেছে।’
সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। এ জন্য দরকার সচেতন ও সোচ্চার জনগোষ্ঠী। কারণ, তারাই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ।’
নাসের বখতিয়ার বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই-বাছাই করা দরকার। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, আয়কর বিবরণীতে কার কত আয় ও সম্পদ রয়েছে তা উল্লেখ থাকে।’ সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন না থাকার বিধান মানার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সুস্পষ্ট অবস্থান থাকা দরকার বলেও মন্তব্য করেন সৈয়দ আবু নাসের।
মূল প্রবন্ধে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ও অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করীম বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ গণতান্ত্রিক যাত্রার ক্ষেত্রে এক গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনাই করেনি—এগুলো ছিল রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে ব্যাপক ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব জাগরণ, তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষার এক তীব্র বিস্ফোরণ। এ সময়টি আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে জনগণ আর নীরব দর্শক থাকতে রাজি নয়। বিশেষত, তরুণ প্রজন্ম শহর থেকে গ্রামের লাখো দেয়ালে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—তারা আর অবিচার, বৈষম্য ও জবাবদিহিহীনতার উত্তরাধিকার বহন করতে চায় না। তারা চায় অংশগ্রহণ, মর্যাদা ও একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন, প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার প্রমুখ।