জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহজাহানপুরে মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা জয়ী হলে সবাইকে নিয়ে কাজ করব। তবে যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দখলদারিত্ব করে তাদের হাড্ডি আমরা প্রশাসন দিয়ে গুঁড়া করব।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে। কিন্তু এই কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টকে এক ঘণ্টা লেট করে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। সেটা এক্সটেনডেড হতে হতে তিন ঘণ্টা করা হয়েছে। ওই তিন ঘণ্টা এই কেন্দ্রের ভেতরে কী হয়েছে, সেটা আমরা জানতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শুনতে পাচ্ছি, লাঙ্গল আর ধান মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। লাঙ্গল এখন ধানের পক্ষে কাজ করে। লাঙ্গলের পিছনে আছে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের পিছনে আছে ভারত। তবে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জেন জি-নারীরা শাপলা কলিতে ধুমাইয়া ভোট মারতেছে। ঢাকা-৮ এ শাপলা কলির ভূমিধ্বস বিজয় হবে। তবে এই বিজয় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর না। এই বিজয় শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের। সকলে আমাকে বলছেন যে, আমরা আপনাকে ভোট দিচ্ছি না, আমরা ভোটটা শহীদ ওসমান হাদি ভাইকে দিতাম। শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের ভোটটা আপনাকে দিচ্ছি। তাই শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার আমাদেরকে করতে হবে।’
পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা জয়ী হলে সবাইকে নিয়ে কাজ করব। তবে যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দখলদারিত্ব করে তাদের হাড্ডি আমরা প্রশাসন দিয়ে গুঁড়া করব। তাদের বাংলার জমিনে কোনো স্থান নেই। জালেমদের আমরা বাংলার জমিন থেকে উচ্ছেদ করব এবং এখানে নির্যাতিত নিপীড়িতদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব। এখানে কোন নয়-ছয় নেই। যে যত প্রভাবশালী হোক না কেন আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাইনা, গুনাই ধরিনা। কে স্থায়ী কমিটির সদস্য, কার নামে কী এলাকা, আমাদের কাছে এগুলা মুখ্য বিষয় না। আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় হলো জনগণ।’
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘সারা দেশে ১১ দলীয় জোটের ভোট ব্যাংকে যেভাবে ভোট পড়তেছে ইনশা আল্লাহ তারা সরকার গঠন করবে। অনেক স্থানে হামলা হচ্ছে আমাদের উপর। আমরা আমাদের নেতা–কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি-কেউ যদি হামলা করতে আসে আপনারা প্রশাসনকে জানাবেন, আপনারা হামলা করতে যাবেন না। প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা সবকিছু দেখব। প্রশাসন যেহেতু দায়িত্ব নিয়েছে। গতকালকে সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে আমাদের ১৩ জনকে আহত করেছে। আমরা পিছনে ব্যাক করেছি। আজকে প্রশাসনের সামনে, আর্মির সামনে যদি কাউকে আঘাত করা হয়, আমরা পাল্টা আঘাত করব। এটা আমরা তাদেরকে সতর্ক করে দিচ্ছি। আমরা প্রচুর মার খেয়েছি, এবার আর মার খাবো না। এবার মার দিব।’