সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে দায়ী করে সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে ছাত্র সংগঠন বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী। সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, বর্তমান সংকটটি প্রাকৃতিক নয়, বরং শাসকগোষ্ঠীর সৃষ্ট একটি কাঠামোগত সমস্যা।
আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এ দাবি জানায় বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী।
সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় এখনো পর্যন্ত সরকার কোনো কার্যকর তদন্ত বা তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। তারা এটিকে গাফিলতি নয়, বরং ‘সুস্পষ্ট অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘হামে শিশু মৃত্যু কোনো গাফিলতি নয়, এটি একটি সুস্পষ্ট ক্রাইম। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’ দায়ীদের বিচার না হলে বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সমাবেশে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ একটি ‘ফ্যাসিবাদী শক্তির’ পতন ঘটালেও দেশের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি।
দিলীপ আরও বলেন, ‘আমরা অভিভাবকদের হাহাকার দেখছি। সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে না কীভাবে এই সংকট তৈরি হয়েছে। এটি আল্লাহপ্রদত্ত কোনো সংকট নয়, বরং পুঁজিবাদী ব্যবস্থার তৈরি সংকট।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে দিলীপ জানান, সরকারের কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তি দেশের জনস্বাস্থ্য ও কৃষি ব্যবস্থার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। সমাবেশ শেষে সংগঠনটির নেতা–কর্মীরা শিশু মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।