রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকের এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি, প্রথম সংসদ অধিবেশনে প্রথম কাজটি হবে ফ্যাসিস্টের দোসর রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া। জাতীয় সংসদে সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই মিলে এই কাজটি করবে। কারণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জাতীয় ঐক্য রয়েছে। আমরা মনে করছি, জাতীয় ঐক্যের জায়গা থেকে এখানে কোনো বিভেদ থাকবে না। এটা সরকারি দল, বিরোধী দল একত্রে উদ্যোগ নেবে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে আসতে না পারায় রাষ্ট্রপতি বহাল ছিলেন বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সেই সময় রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে আসতে পারেনি দেখে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন হয় নাই। না হলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের দাবি জনগণের পক্ষ থেকে ছিল। সেই সময় রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক শূন্যতা অনেক কিছুর কথা বলে রাষ্ট্রপতিকে রেখে দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন সরকার এসেছে। নতুন সংসদ তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি যে, রাষ্ট্রপতি এখন চলে যাওয়াটা কেবলই সময়ের ব্যাপার। আমরা সবাই সেই সময়ের অপেক্ষায় আছি।’
জুলাই আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নীরব, নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন এনসিপি প্রধান। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণহত্যাসহ সেই সময় যে নির্মম হত্যাযজ্ঞ হয়েছিল, সেসময় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেননি। তিনি নীরব নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে আমরা রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত গিয়েছিলাম। বঙ্গভবন পর্যন্ত গিয়েছিলাম। তাঁর নীরব নিষ্ক্রিয়তার কারণে এই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। ফলে এই গণহত্যার দায়ে তিনিও অভিযুক্ত। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনৈতিকতার অভিযোগ রয়েছে আগে থেকেই।’
নানা অপরাধের দায় রাষ্ট্রপতির ওপরে থাকায় তাঁকে অভিশংসন ও মামলা করে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বলতে আমরা যেটা বুঝি, রাষ্ট্রের অভিভাবক। যেই সম্মান-শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব প্রয়োজন, এর কোনোটাই তাঁর নেই। বরং নানা অপরাধে তিনি অভিযুক্ত। ফলে এখন সময় এসেছে অভিশংসন করে তাঁকে সরানো। দ্বিতীয়ত, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে তাঁকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা।’
রাষ্ট্রপতি একটি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়ে শপথ লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্ট সময়ের চিহ্ন। তাঁকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। তিনি যেই ধরনের সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সেটাও শপথ লঙ্ঘন হয়েছে। ফলে কোনোভাবেই এই রাষ্ট্রপতি তাঁর পদে থাকার যোগ্য না।’
এ সময় নাহিদ ইসলাম কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করেন। আওয়ামী লীগকে অফিস খোলার এবং কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিলে দেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম খোলার বিষয়ে সাংবাদিকেরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আইনগতভাবে এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। এখন এই নতুন সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো গোপন চুক্তি হয়েছে কিনা এটা আমরা জানি না। কিন্তু কার্যক্রমে এটাই মনে হচ্ছে যে, ইলেকশনে ভোটের চুক্তি হোক, আর যেকোনোভাবে হোক...। কারণ প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এই কার্যক্রম (আওয়ামী লীগের অফিস খোলা) সম্ভব নয়।’