শ্রমিক তৌফিক হত্যার বিচার, শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশি ও সরকারদলীয় হামলা-নিপীড়ন বন্ধ এবং শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট।
আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে ভিসি চত্বর, সূর্য সেন হল, হলপাড়া, কলাভবন, মধুর ক্যানটিন ও কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে দিয়ে গিয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন জোটের নেতা-কর্মীরা।
সমাবেশে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে। শ্রমিকেরা যখন নিজেদের দাবি আদায়ে আন্দোলন করছেন, তখন তাঁদের আন্দোলনকে এক আমলে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র, এক আমলে বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও শ্রমিক আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখানো হতো। বর্তমান সরকারও একই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে।
রফিকুজ্জামান বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত না করে তাঁদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে হবে। সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষের বক্তব্যে শ্রমিকদের দাবির পরিবর্তে আন্দোলন দমনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জোটের সমন্বয়ক রফিকুজ্জামান আরও বলেন, শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশ ও সরকারদলীয় ব্যক্তিদের হামলার ঘটনা ঘটছে। শ্রমিকদের ঘরে ঘরে গিয়ে তাঁদের খোঁজা, বের করে এনে মারধর ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অতীতেও বিভিন্ন আন্দোলনের সময় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকদের ওপর এমন দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে।
তৌফিক হত্যার বিচার দাবি করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের এ নেতা বলেন, শ্রমিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তৌফিককে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ওপর পুলিশি ও সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হামলা, নিপীড়ন এবং গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘শ্রমিকেরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার ও দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনে নেমেছেন। কিন্তু তাঁদের দাবির প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে আন্দোলন দমনে পুলিশি হামলা, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। আমরা মনে করি, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে তাঁদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে এই আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’
মোজাম্মেল হক বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে বর্তমান মজুরি দিয়ে একজন শ্রমিকের পক্ষে নিজের ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন। তাই শ্রমিকদের জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে।
মোজাম্মেল হক আরও বলেন, শ্রমিক তৌফিক হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের ওপর হামলা-নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের হয়রানি ও গ্রেপ্তার না করে তাঁদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি নাঈম উদ্দীন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিমন মুখার্জি, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুজয় বিশ্বাস শুভ, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহরিয়ার অন্ধকার আলী এবং পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শুভাতি চাকমাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।