জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীবকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএনপির স্থানীয় নেতা দিদার মোল্লার নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে এনসিপি।
আজ সোমবার সকালে খিলক্ষেত থানার ডুমনি বাজার এলাকায় পথসভা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
আরিফুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। আমার সহযোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এইখান থেকে আমার লাশ যাবে তবুও প্রোগ্রাম করে যাব ইনশা আল্লাহ।’
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন জানান, বিএনপির এসএম জাহাঙ্গীর এই আসনের প্রার্থী। গতকাল রোববার ওই এলাকায় এনসিপির নেতা-কর্মীদের হেনস্তা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, গতকালও আমাদের নেতা-কর্মীদের হেনস্তা করে বিএনপি নেতারা। রাতে বিষয়টি জাহাঙ্গীরকে অবগত করা হলে আর এমনটা হবে না বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এনসিপি প্রার্থী আরিফুল ইসলাম তাঁর পথসভা চালিয়ে যাচ্ছেন। আবারও কেউ হামলা করতে এলে প্রতিরোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিএনপি প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আদীবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে৷ তিনি হামলার কথা বলেছেন। ঘটনাটি তদন্তে আমি ইতিমধ্যেই তদন্ত টিম গঠন করে দিয়েছি। দিদারকেও ডেকেছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দিদার মোল্লা বিএনপির ডুমনি ৪৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি বলে জানান এসএম জাহাঙ্গীর। দিদার মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ডিএমপির খিলক্ষেত থানার এসআই রাজু আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। বা ঘটনার সময় পুলিশকে ফোনও দেননি। তবে মারামরির খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
এ ঘটনার প্রতিবাদে এক বিবৃতিতে এনসিপি জানিয়েছে, সকালে রাজধানীর খিলক্ষেত থানার ডুমনি নূরপাড়া এলাকায় একটি এতিমখানা পরিদর্শন ও গণসংযোগ চলাকালে স্থানীয় বিএনপি নেতা দিদার মোল্লার নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়। এতে জোটের অন্তত দুইজন কর্মী গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া খিলক্ষেত বরুয়া এলাকায় নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনের সময় মব সৃষ্টি করে বাধা প্রদান, তুরাগের বামনারটেকে নির্বাচনী অফিসের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা, নিকুঞ্জতে নানাভাবে মহিলা জামায়াত কর্মীদের হুমকি প্রদানসহ নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এস এম জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বাস দেন। অথচ পরদিনই এই ন্যক্কারজনক হামলা সংঘটিত হলো।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনে করে, নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সহিংসতায় রূপ দেওয়া গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মারাত্মক হুমকি। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এনসিপি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।