ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাসই হলো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। এই দেশে প্রথম মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয় বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ৷ এরা সেই দল যারা সমস্ত রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে একদলীয় স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল।’
বাংলাদেশ বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশের সম্মেলনে দাওয়াত পায় না। বিশ্ব স্বীকার করে না যে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্সের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ হাইব্রিড গণতন্ত্রের দেশ। যেখানে বিরোধী দলকে আন্দোলনে বাধা দেওয়া হয়, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়, যেখানে স্বাধীনভাবে নির্বাচন হয় না কিন্তু নামে গণতন্ত্র থাকে—সেটাকে বলে হাইব্রিড গণতন্ত্র।
চলমান স্বৈরতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে ছাত্রদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘একুশের ভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন, স্বাধীনতাসংগ্রাম বা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইটা শুরু করে ছাত্ররা। সেটা বেগবান হয় যখন তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয় শ্রমিক, যুব সংগঠন এবং জনগণ। আগামী দিনেও এর ব্যতিক্রম হবে না।’
সভাপতির বক্তব্যে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপির নেতা আমান উল্লাহ আমান বলেন, ১৯৮৩ সালের ১৪ জানুয়ারি স্বৈরাচার এরশাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডরে পুলিশ ঢোকাতে বাধ্য হয়েছিল। জয়নাল, দিপালী, কাঞ্চনসহ অনেকে শহীদ হয়েছিলেন। সারা ঢাকা শহরে বাঁশের লাঠি নিয়ে মানুষ মিছিল করেছে। কিন্তু এরপরেও এই স্বৈরাচারের সঙ্গে শেখ হাসিনা জোট করে নির্বাচন করেছেন। খালেদা জিয়া তখন বলেছিলেন, ‘ছাত্র-শ্রমিকদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে আমি নির্বাচনে যাব না। সেই থেকেই তিনি আপসহীন নেত্রী আর শেখ হাসিনা জাতীয় বেইমান।’
আমান উল্লাহ আমান আরও বলেন, ‘র্যাবের ডিজি, পুলিশপ্রধানের নামে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। দেশ কোন পর্যায়ে আছে, দেশটা দেখেন। নিষেধাজ্ঞা শুধু তাদের ওপর আসেনি, বাংলাদেশের জনগণ কিছুদিনের মধ্যেই শেখ হাসিনাকে নিষেধাজ্ঞা দেবে। সার্চ কমিটি? নির্বাচন কমিশন? এগুলো তো এক ধাক্কায় চলে যাবে। এই কমিশন কার কথা শুনবে? শেখ হাসিনার কথা। নাটক বন্ধ করে বিদায় নেন। জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে তুলে দিন।’
বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক ছাত্রনেতা এম এ জলিল, ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।