ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ পুনর্গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা, মাঠপর্যায়ে সমন্বয়, আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম, মিডিয়া ও প্রচারণা, মনিটরিং ও গণভোটে ‘‘হ্যাঁ’’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার লক্ষ্যে ‘‘কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’’ পুনর্গঠন করা হলো।’
পুনর্গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।
এ ছাড়া এই কমিটিতে ২৯ জনকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি, তানজিল মাহমুদ, অ্যাড. জহিরুল ইসলাম মুসা, অ্যাড. হুমায়রা নূর, আকরাম হুসাইন, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া, লুৎফর রহমান, সাগুফতা বুশরা মিশমা, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, তাহসীন রিয়াজ, লে. কর্নেল (অব.) মো. সাব্বির রহমান, সাদিয়া ফারজানা দিনা প্রমুখ।
এর আগে, গত ৪ নভেম্বর এনসিপি ‘কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করে। সেই কমিটির প্রধান ছিলেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সেক্রেটারি ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর তাসনিম জারাসহ এনসিপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরপর গত ২৯ ডিসেম্বর এনসিপিতে যোগ দেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সেদিনই তাঁকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং এই কমিটি পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পুনর্গঠিত কমিটিতে সেক্রেটারির দায়িত্ব পাওয়া মনিরা শারমিন নওগাঁ-৫ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোটবদ্ধ হওয়ার পর তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। গত ১০ ডিসেম্বর এর ব্যাখ্যা দিয়ে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মনোনয়ন পাওয়ার আগে আমি জানতাম না, এই দল জামায়াতের সাথে ৩০ সিটের আসন সমঝোতা করবে। আমি জানতাম, ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে একক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ছিল। যেহেতু এখন দলের পজিশন পরিবর্তন হয়েছে, তাই আমি নিজেকে নির্বাচন থেকে প্রত্যাহার করছি। নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করছি না। আমি এনসিপির স্বতন্ত্র শক্তিতে বিশ্বাসী।’