দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র নির্মূল করতে গেলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আসল কাহিনি উন্মোচন করতে হবে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ছিল।
আজ বুধবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
‘২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহে মর্মান্তিক-নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবি’তে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যারাই পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, এর পেছনে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ছিল। এটা যদি আজকে উন্মোচিত না হয়, তো এই দেশকে নিয়ে আবার কেউ, কোনো দল, কোনো সংস্থা, কোনো শক্তি যে আর ষড়যন্ত্র করবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের আজাদি, আমাদের সার্বভৌমত্ব, আমাদের জাতিসত্তা ও আমাদের অখণ্ডতা বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র নির্মূল করতে গেলে এই পিলখানার সেনা হত্যাকাণ্ডের আসল কাহিনি জাতির সামনে উন্মোচন করতে হবে। এক, দুই, তিন, চার করে যার যার নাম প্রকৃত তদন্তে বেরিয়ে আসবে তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি বিধান করতে হবে।
শহীদ পরিবারের অশ্রু, আহাজারি জাতির জন্য অভিশাপ মন্তব্য করে গোলাম পরওয়ার এই অভিশাপ থেকে মুক্তির জন্য অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সুবিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারের অপেক্ষা আর দীর্ঘ করা যায় না। অনতিবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারের নামে নাটক সাজিয়ে যেসব নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাদের মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধান নীরব থাকা প্রমাণ করে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানও জড়িত। এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা এবং সেই সুযোগে বাংলাদেশে আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে তাদের করদ রাজ্য করা। তাদের পরিকল্পনায় তারা অনেকটা সফলও হয়েছে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম।