অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে সরিয়ে ব্যাংকিং অভিজ্ঞতাহীন ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ দিয়ে আর্থিক খাতে অরাজকতার সূচনা করা হলো—এমন মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি।
বিবৃতিতে গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান। দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের মূল নিয়ন্ত্রণ থাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। আধুনিক বিশ্বের বহুমাত্রিক ও জটিল অর্থব্যবস্থায় এই ধরনের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ব্যাংক ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট একাডেমিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সৎ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া উচিত। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকে আমলা বা বাস্তব অভিজ্ঞতাহীন একাডেমিশিয়ান নিয়োগ দিয়ে দেশের আর্থিক খাতের সর্বনাশ করা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি অর্থনীতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাকমাস্টার ও ওয়েস্টার্ন অন্টারিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রমান্বয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে বহু বছর আইএমএফে কাজ করেছেন। আধুনিক অর্থনীতি নিয়ে তাঁর একাডেমিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি যখন দায়িত্ব নেন তখন চরম অর্থনৈতিক চাপের সময়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়া, টাকার বিনিময় হার নিয়ে অস্থিরতা এবং আমদানির চাপ সে সময় ছিল চরমে।
দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে আহসান এইচ মনসুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মন্তব্য করে গাজী আতাউর বলেন, রিজার্ভ পুনরুদ্ধার, বিনিময় হারের অসামঞ্জস্য দূর এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ব্যাংকিং খাত সংস্কার শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে তিনি দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করেন, সুশাসন জোরদার করেন এবং খেলাপি ঋণ মোকাবিলায় ‘অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ গঠনের উদ্যোগ নেন। গতকাল মব সৃষ্টি করে তাঁকে বাংলাদেশ ব্যাংক ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় এবং সরকার তাঁর নিয়োগ বাতিল করে এমন একজনকে নিয়োগ দেয়, যার অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনাও নাই, বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতাও নাই।
নতুন গভর্নর একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরেই তাঁর মালিকানাধীন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের’ ৮৯ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করেছে বেসরকারি খাতের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। এমন একজন ব্যক্তিকে গভর্নর নিয়োগ করে আর্থিক খাতকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়া হলো। দেশের আর্থিক খাত যখন সংস্কারের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তখন এমন অবিবেচক সিদ্ধান্ত একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত না বলে মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র। তিনি বলেন, দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও গভর্নর নিয়োগ দেওয়া উচিত না বরং দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই গভর্নর নিয়োগ দেওয়া উচিত।