বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তিভবনে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবি জানিয়ে সংগঠনটির সমন্বয়ক আবদুল্লাহ কাফী রতন বলেছেন, সিপিবির কার্যালয়ে হামলা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ওপর আক্রমণ নয়, এটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, মুক্ত রাজনৈতিক চর্চা ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতার ওপর নগ্ন আঘাত।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কাফী রতন বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও মতপার্থক্যের কারণে কোনো দল বা সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা, নেতা-কর্মীদের ওপর আক্রমণ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অধিকার কারও নেই। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে দমন করা যাবে না।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল উগ্র ও উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি নিজেদের সরকারদলীয় কর্মী পরিচয় দিয়ে মুক্তিভবনের সামনে জড়ো হন। সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের সদস্যরা অবস্থান করছেন এমন দাবি করে তারা কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় সিপিবির নেতা–কর্মীরা বাধা দিলে হামলাকারীরা সহিংসতা শুরু করেন। তাদের হামলায় কয়েকজন আহত হন।
বক্তারা আরও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সিপিবির কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার পরও হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় কার্যালয়টি অবরুদ্ধ করে রাখেন।
নেতারা বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিপিবি লড়াই করেছে, রক্ত দিয়েছে এবং দলটির বহু নেতা-কর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও মুক্তিভবন ছিল আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেই কার্যালয়ে হামলা গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।
যুক্তফ্রন্টের নেতারা বলেন, হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের প্রত্যাশা ছিল, দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভয়ভীতিমুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হামলা, হুমকি ও শক্তি প্রদর্শনের ঘটনা সেই প্রত্যাশাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সব রাজনৈতিক দলের নিরাপদে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
সমাবেশ থেকে সিপিবির কার্যালয়ে হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা এবং রাজনৈতিক দল ও গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলোর কার্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান নেতারা।
আবদুল্লাহ কাফী রতনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ এবং বাসদ (মাহবুব)-এর কেন্দ্রীয় নেতা মইনউদ্দিন চৌধুরী লিটন প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পল্টন মোড়, নূর হোসেন স্কয়ার ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে।