হোম > রাজনীতি

সরকারব্যবস্থা থেকেই গণতান্ত্রিক চর্চা কার্যকর করতে হবে: তারেক রহমান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

সিলেটে ‘দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে কথা বলছেন তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল

গণতন্ত্র কেবল জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, স্থানীয় সরকারব্যবস্থা থেকেই গণতান্ত্রিক চর্চা কার্যকর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও স্থানীয় কমিউনিটি পর্যায়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটে ‘দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশের আগে হোটেলে এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।

তরুণদের দিকনির্দেশনা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্র হাজার বছরের চর্চার ফল। উন্নত দেশগুলোতে আমরা দেখি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত সব জায়গায় গণতান্ত্রিক অনুশীলন কার্যকরভাবে রয়েছে।’

বাংলাদেশে রোগীর তুলনায় সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকের সংখ্যা অত্যন্ত কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক অক্ষমতার কারণে বহু মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে সীমিত সম্পদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে জমি অধিগ্রহণ, বাজেট, টেন্ডার সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময় লাগে। অথচ রোগীরা সেই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা পায় না। তাই দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ জরুরি।’

প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল করা বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোতেও নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্দিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশেও পরিকল্পনা করতে হবে।’

প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘কমিউনিটি পর্যায়ে হেলথ কেয়ার ওয়ার্কারদের মৌলিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে সাধারণ রোগে ঘরে ঘরেই প্রাথমিক সেবা দেওয়া সম্ভব হবে এবং হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে।’

বিদেশে অদক্ষ শ্রমিক যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বিদেশে যায়, যাদের বড় অংশই অদক্ষ। ফলে তারা দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত অবদান রাখতে পারে না।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক করতে চাই। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভাষা শিক্ষা যুক্ত করা হবে, যাতে তরুণেরা জাপান, ইউরোপ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে দক্ষ হিসেবে কাজ করতে পারে।’

নারী ক্ষমতায়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সময় মেয়েদের শিক্ষায় বিনামূল্য ব্যবস্থা চালুর ফলে আজ নারী শিক্ষায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। বিএনপি সরকারের পরিকল্পনায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যা পরিবারের প্রধান নারীর নামে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা বা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা অর্থ পেলে তা সন্তানের শিক্ষা, পরিবারের স্বাস্থ্য ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় করেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতি সচল হয় এবং নারীর আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক মর্যাদা বাড়ে।’

পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে গণতন্ত্রের সম্পর্ক তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নাগরিকের কথা বলার অধিকার থাকলেই শহরের ময়লা ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের মতো সমস্যা সমাধান সম্ভব। বিএনপি আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ৮০ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় সরকারি নার্সারির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে চারা বিতরণ করা হবে।

কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘এটি অর্থনীতির একটি বাস্তবতা। তবে অন্যায় হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষককে প্রতীকী সহায়তা নয়, বাস্তব ও কার্যকর সহায়তা দিতে হবে।’

স্বৈরশাসন-চাঁদাবাজির নীতিতে যাঁরা আসতে চান, জনগণ তাঁদের লাল কার্ড দেখাবে: এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

মিরপুরে জামায়াত আমিরের সমাবেশ, বাড়ছে লোকসমাগম

তাদের প্রটোকল তিন গুণ বাড়িয়ে দিন: তারেক রহমান

ধানের শীষের আমলে কেউ গুম হয়নি: তারেক রহমান

‘যেসব দল–ব্যক্তি মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে’

একটি দলের কার্যকলাপ নিয়ে ‘নাউজুবিল্লাহ’ বললেন তারেক রহমান

শেরেবাংলা-সোহরাওয়ার্দী-নজরুল-হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে এনসিপির প্রচার শুরু

আপনারা ভালা আছেননি—সিলেটবাসীকে সালাম দিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য শুরু

সিলেটে বিএনপির সমাবেশ: মঞ্চে তারেক রহমান

ডা. জুবাইদার মতো আমিও আপনাদের সন্তান: তারেক রহমান