বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধান সংস্কার করেছেন উল্লেখ করে সরকারের উদ্দেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান প্রশ্ন রেখেছেন, ‘আপনারা কি তাদের চাইতেও বেশি ৭২-এর সংবিধানপ্রেমিক হয়ে গেলেন?’
আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ প্রশ্ন রাখেন তিনি। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘কেউ কেউ বলেন, ৭২-এর সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না। আমি জিজ্ঞেস করি, ৭২-এর সংবিধান কি শেখ মুজিবকে রক্ষা করেছিল? ৭২-এর সংবিধানে কি বাকশাল ছিল? ৭২-এর সংবিধানে কি বহুদলীয় গণতন্ত্র নিষিদ্ধ ছিল? যে শেখ মুজিব নিজেই ৭২-এর সংবিধানকে জায়গায় রাখলেন না, আপনি নতুন প্রেমিক কোত্থেকে আসলেন? জিয়াউর রহমান সাহেব কি এই সংবিধান পরিবর্তন করেন নাই?’
বিরোধীদলীয় নেতা আরও প্রশ্ন রাখেন, ‘মরহুম নেতা এম কে আনোয়ার এই জাতীয় প্রেসক্লাবে বসে একটা আলোচনার সময় বলেন নাই যে—জনগণের সরকার কায়েম হলে এই সংবিধানকে আমরা ছুড়ে ফেলে দেব? মরহুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কি বলেন নাই—জনগণের সরকার কায়েম হলে এই সংবিধান থাকবে না? তাহলে আপনারা কি তাদের চাইতেও বেশি ৭২-এর সংবিধানপ্রেমিক হয়ে গেলেন?’
সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনি সংবিধানের এক অংশ মানবেন আরেক অংশ মানবেন না, ভারী মজা! একটা অর্ডারের ভিত্তিতে দুইটা ভোট একই দিনে হয়েছে। আপনি গোশত মানেন, কিন্তু ঝোল খাইতে রাজি না। একই তরকারি, একই বাসনে রান্না হয়েছে। গোশতটা খেয়ে নিলেন আর বলতেছেন, ঝোলটা হারাম, ওই গোশত তো ঝোলের ভেতরেই পাকানো হয়েছে, তাহলে গোশত হালাল হয় কীভাবে? ওইটাও হারাম।’
আগামী ২৯ তারিখ আবার অধিবেশন বসছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নোটিশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সংস্কার বিষয়ে আলোচনার জন্য। আমরা সুযোগ নিয়ে বলতে চাই, নোটিশের অপেক্ষা না করে অধিবেশন বসার সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা দিন যে আমরা তা আপাদমস্তক যেভাবে সাইন করেছি, ওভাবে বাস্তবায়ন করব। আসুন, এখন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা আলোচনা করি সংসদে। আমরা প্রস্তুত, খোলামন নিয়ে প্রস্তুত। কিন্তু এইটা নিয়ে যেকোনো ধরনের কালক্ষেপণ বা টালবাহানা আমরা মানব না। যদি সংসদে তার সমাধান হয়, আলহামদুলিল্লাহ, না হয় এই রাজপথই আমাদের ঠিকানা।’
সম্প্রতি জ্বালানি সংকট নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে গোটা বিশ্ব অস্থির, অন্তত অনেক দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। জ্বালানির অভাবে অনেক দেশ কুঁকড়ে আসছে। অবশ্য আমরা জ্বালানিতে খুবই সমৃদ্ধ, কারণ, আমাদের মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, কোনো কিছুর আমাদের অভাব নাই। এই অভাব না থাকার কারণেই কয়েক কিলোমিটার এক–একটা পাম্পের সামনে এখন সারি সারি গাড়ি। অভাব নাই তো এত লম্বা লাইন কেন?’
আলোচনা সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনার বাবা সারা বিশ্বে প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন স্বাধীনতার ঘোষণা করে, আপনার মা প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করে। সুতরাং, আপনিও প্রসিদ্ধ হয়ে যান সংস্কারগুলো করে। ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সারা দেশে হয়তো বিএনপির ভোট গুনলে আপনারা তিন কোটির মতো হয়তো ভোট পেয়েছেন। কিন্তু জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যে গণভোট দেওয়া হয়েছে, চার কোটির বেশি প্রায়। চার কোটির বেশি ভোটে গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে রায় হয়েছে। ফলে জুলাই সনদের পক্ষের জনমত আর গণভোট হিসাব যদি করেন, তাহলে জনগণ কিন্তু আপনাদের দিকে যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে, তারচেয়ে জুলাই সনদের পক্ষে সর্বোচ্চ অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী জনগণের অভিপ্রায়ই হচ্ছে ক্ষমতা। তাহলে চার কোটি জনমতের কাছে তিন কোটি জনমত পরাজিত। আপনাকে জুলাই সনদ মানতে হবে।’