হোম > রাজনীতি

১৪ দাবিতে স্পিকারকে স্মারকলিপি

গুম প্রতিরোধের বাতিল করা অধ্যাদেশ বহাল রাখতে হবে: পরওয়ার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

গুম প্রতিরোধের বাতিল করা অধ্যাদেশটি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে যারা গুমের সঙ্গে জড়িত তাদের হাতে তদন্তের দায়িত্ব না দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা ও স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি’। স্মারকলিপি প্রদানের আগে জাতীয় সংসদের সামনে আয়োজিত সমাবেশে এসব দাবি জানান পরওয়ার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গুমের বিরুদ্ধে যে অরডিন্যান্স জারি করা হয়েছে তা বাতিল করে, গুমের ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের হাতে দিয়ে এই সরকার আবার ‘গুম করার ষড়যন্ত্র করছে’। তিনি আরও বলেন, ‘গুম প্রতিরোধের যে অর্ডিন্যান্সটি বাতিল করা হয়েছে তা বহাল রাখতে হবে। যারা গুম করে তাদের হাতে তদন্তের দায়িত্ব থাকতে পারে না।’

কর্মসূচিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে জনগণ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশে আর গুম, খুনের আস্তানা চলতে পারে না। জুলাই সনদে মানবাধিকার রক্ষা ও গুম প্রতিরোধে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল। ‘বর্তমান সরকার নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে সেখানে নামেমাত্র একটি কমিটি করতে চায়। এ সরকার বিগত ফ্যাসিবাদের মতো গুম, খুন করতে চায়’—মন্তব্য করেন তিনি।

স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিনুর রহমান বলেন, তাঁরা সবগুলো পয়েন্ট স্পিকারকে জানিয়েছেন। তিনি দ্বিমত করেননি। তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলেছি যে আইনটি করা হয়েছে, তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রীও প্রমাণ করতে পারবেন না যে, তাঁর স্বামীকে গুম করা হয়েছিল। আমরা এ ধরনের আইন চাই না।’

১৪ দফা দাবি

স্মারকলিপিতে গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানের আইন প্রণয়ন, স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন এবং গুমের তদন্তে পুলিশের একক এখতিয়ার বাতিলসহ ১৪ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভুক্তভোগীবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গুম প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করা, ২০২৫ সালের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশে থাকা কার্যকর আইনি সুরক্ষা নতুন আইনেও অক্ষুণ্ণ রাখা, অভিযুক্ত বাহিনীর সদস্য বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দিয়ে গুমের তদন্ত করানো বন্ধ করা।

এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রভাবমুক্ত ও পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন, গুম সংক্রান্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং কোনো পদমর্যাদার ব্যক্তিকে দায়মুক্তি না দেওয়া, গত ১৫ বছরে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার ও তাদের অবস্থান নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয় স্মারকলিপিতে।

দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে—সব গোপন আটককেন্দ্রের আলামত সংরক্ষণ এবং এসব কর্মকাণ্ডের নির্দেশদাতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা, গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী পরিবারের সত্য জানার অধিকার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা, মিরাজ শেখের অবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর গুমের অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং এ বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায় এড়ানোর সুযোগ বন্ধ করতে ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা কমান্ডের দায় স্পষ্টভাবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা, নতুন আইন পাসের আগে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অর্থবহ পরামর্শ করা, ‘সিস্টেমেটিক’ গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধি নির্ধারণ করা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরের ব্যক্তিদের সংঘটিত গুমের অপরাধকে আইনে সংজ্ঞায়িত করে বিগত আমলের নিপীড়নমূলক মামলাগুলো পুনঃপর্যালোচনার ব্যবস্থা করা।

কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম আরমান, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী প্রমুখ।