তারেক রহমানের সঙ্গে বাম নেতাদের বৈঠক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাম দলগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’-এর নেতারা। গতকাল সোমবার সকালে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নেতাদের মধ্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক অবস্থা, আসন্ন সংসদ নির্বাচন এবং উগ্র ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ২৯ নভেম্বর বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলসহ (বাসদ) ৯টি বাম ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল নিয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়।
শিগগিরই দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নিতে যাওয়া তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। তিনি বলেন, ‘প্রধানত খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর সন্তান হিসেবে তারেক রহমান এবং শোকাহত পরিবার ও দলের প্রতি সমবেদনা জানাতেই আমরা এই বৈঠকে গিয়েছি। এই শোকের সময়ে আমাদের সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য।’
বৈঠকের আলোচনার বিষয় প্রসঙ্গে বাসদ নেতা বলেন, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে দেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির যে উত্থান দেখা যাচ্ছে, সে বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বজলুর রশীদ বলেন, তারেক রহমান বলেছেন, তিনি ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই বলে আসছেন—একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধই আমাদের রাষ্ট্রের ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না। সেই সঙ্গে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সামনে এগোতে হবে।
বজলুর রশীদ আরও বলেন, তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই দেশে বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী, সংশয়বাদী—সবাই থাকবে এবং সবাইকে নিয়েই আমাদের এগোতে হবে। একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা বিএনপির আছে।’ তিনি মনে করেন, ভিন্নমত থাকতে পারে। তবে জনগণের প্রশ্নে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় হবে। একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক জানান, তাঁদের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে বলা হয়েছে, দেশে এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা ও দার্শনিক সহনশীলতা থাকবে। তাঁরা জোর দিয়ে বলেছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।
বৈঠকে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মোস্তাক হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সাত্তার এবং বাসদের (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।