ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের কারণে সাতজন প্রার্থীকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে সেই অনুরোধ রাখেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে আসনগুলোর ব্যালট পেপারে একই সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও জোটের প্রার্থীদের আলাদা দলীয় প্রতীক থাকবে।
ইসিসংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ২২ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি দুটি চিঠিতে দলের সাতজন প্রার্থীকে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা না দেওয়ার অনুরোধ করে ইসিকে চিঠি দেয় জামায়াত।
২৩ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনকে দেওয়া চিঠিতে জামায়াত বলেছে, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমরা নরসিংদী-২ আসনে মো. আমজাদ হোসাইনকে ও চট্টগ্রাম-৮ আসনে মো. আবু নাসেরকে মনোনয়ন দিয়েছিলাম।
‘কিন্তু ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে নরসিংদী-২ আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত গোলাম সারোয়ার এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে ছেড়ে দিয়েছি। আসন দুটিতে জামায়াত মনোনীত দুই প্রার্থী যথাসময়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। তাই ওই দুটি আসনের ব্যালট পেপারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখার জন্য অনুরোধ করছি।’
আর ২৪ জানুয়ারি সিইসিকে দেওয়া আরেক চিঠিতে জামায়াত বলেছে, ‘ভোলা-২ আসনে মোহাম্মদ ফজলুল করিম, নরসিংদী-৩ আসনে মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ-১ আসনে তোফায়েল আহমদ ও চট্টগ্রাম-১২ আসনে মোহাম্মদ ফরিদুল আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।
‘কিন্তু ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে ভোলা-২ আসনটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) মনোনীত প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরী, নরসিংদী-৩ আসনটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম) মনোনীত মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম) মনোনীত মো. শাহজাহান, সুনামগঞ্জ-১ আসনটি নেজামে ইসলাম পার্টি মনোনীত মাওলানা মোজাম্মেল হক তালুকদার এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) মনোনীত এম ইয়াকুব আলীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই পাঁচ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী যথাসময়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। এই পাঁচ আসনের ব্যালট পেপারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখার জন্য অনুরোধ করছি।’
জামায়াতের ওই দুই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে দেওয়া এক চিঠিতে ইসি জানায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ‘কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে সে ক্ষেত্রে দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী কোনো ব্যক্তি, তৎকর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি লিখিত নোটিশ দ্বারা, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখে বা তার আগে, তিনি স্বয়ং বা এতদুদ্দেশ্যে তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে কোনো প্রার্থীর চূড়ান্ত মনোনয়ন সম্পর্কে অবহিত করিবেন এবং উক্ত দলের অন্যান্য প্রার্থীর প্রার্থিতা স্থগিত হইবে। তবে প্রতীক প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকার বিষয়টি সদয় অবগতির জন্য নির্দেশিত হয়ে জানানো হলো।’