ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির দাবি, আজ বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন আসনে তাঁদের প্রার্থী ও নির্বাচনী এজেন্টদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি এবং ভোট কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় প্রশাসনকে অবশিষ্ট সময়ে কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
আজ বৃহস্পতিবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে যে সব অভিযোগ করা হয়েছে—
১. ভোলা ১ এ বহু কেন্দ্রে ভোট আগে হয়ে গেছে।
২. পটুয়াখালী-৪ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ও বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীরা হাতপাখার সমর্থকদের বাধা ও হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ময়পুর মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া এবং জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
৩. ভোলা-১ আসনে ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাংকের হাট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াতের এজেন্টরা নারী ভোটারদের কাছ থেকে সিল কেড়ে নিয়ে নিজেদের পছন্দের মার্কায় সিল দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
৪. ভোলা-১ আসনের আওতাধীন উত্তর দিঘোলদী ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা উত্তরের জেলা সেক্রেটারি ও প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টসহ পর্যবেক্ষণ টিম স্থানীয় বিজেপি নেতাকর্মী কর্তৃক দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে।
৫. ভোলা-৪ আসনের চরকলমী ইউনিয়নের ৬০ ও ৬১ নম্বর কেন্দ্রে ভোট কারচুপিতে বাধা দেওয়ায় বিএনপি কর্তৃক হাতপাখার নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
৬. নরসিংদী-৫ আসনের রায়পুরাতে ভোট চুরিতে বাঁধা দেওয়ায় হাতপাখার এজেন্টকে বিএনপি কর্তৃক মারধর ও রক্তাক্ত করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো ভূমিকা পরিলক্ষিত হয়নি।
৭. ঝালকাঠি-১ আসনের রাজাপুর থানার বিভিন্ন এলাকায়ও হাতপাখার এজেন্টদের মারধর, কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং হুমকির অভিযোগ করেছে দলটি। এসব ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিষয়গুলো স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে। অবশিষ্ট সময়ের জন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।