আওয়ামী লীগের কঠোর নির্দেশনার পরেও উপজেলা নির্বাচন থেকে এমপি-মন্ত্রীদের স্বজনদের সরানো যায়নি। যা নিয়ে দলের ভেতরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় এমপিদের দিকনির্দেশনা দিতে সংসদীয় দলের বৈঠকে বসছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদের পরিচালক (গণসংযোগ-১) মো. তারিক মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বৈঠকের কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী আওয়ামী লীগদলীয় এমপিদের যথাসময়ে সভায় উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।
সংসদীয় দলের বৈঠক নিয়ে জাতীয় সংসদের দুজন হুইপের সঙ্গে আজকের পত্রিকার কথা হয়। তাঁরা জানান, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই সম্পর্কে এমপিদের দিকনির্দেশনা দিতেই সংসদীয় দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। কারণ, এবার দল থেকে এমপি-মন্ত্রীদের স্বজনদের নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ এমপির স্বজনেরা সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করেছে। আর অভিযোগ আছে এমপিদের প্রভাবের কারণেই স্বজনেরা ভোটে আছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হুইপ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পরে আমাদের মাত্র একবারই সংসদীয় দলের বৈঠক (১০ জানুয়ারি) হয়েছে। সারা বাংলাদেশের নানাবিধ সমস্যা সেই সম্পর্কে নেত্রী দিকনির্দেশনা দেবেন। যেহেতু উপজেলা নির্বাচন আছে, এ বিষয়টি অবশ্যই আলোচনায় থাকবে।’
তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীদের স্বজনদের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক হলেও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের অধিকতর সুযোগ দেওয়ার জন্য দলীয় এ নির্দেশনা। আর দলের সিদ্ধান্ত এমপি-মন্ত্রীরা মানবে কি মানবে না সেটা ৩০ এপ্রিলের (আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক) পরে দেখা যাবে। দেখবেন সবাই (এমপি-মন্ত্রীদের স্বজন) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন।
উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পরে গত ১০ জানুয়ারি বিজয়ী এমপিরা শপথ গ্রহণ করেন। ওই দিন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা, সংসদের উপনেতা, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ নির্বাচন করা হয়।