টিসিবির গাড়ি-দোকানের সংখ্যা ও পণ্য সরবরাহ বৃদ্ধি, স্থায়ী রেশনিং ব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু, ঈদের আগে সকল শ্রমিকদের বেতন-বকেয়া-বোনাস পরিশোধ এবং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার আদায়ের দাবিতে আগামী ১৫ থেকে ১৭ এপ্রিল তিন দিনব্যাপী সারা দেশে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গণ অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। আজ শুক্রবার দলটির পল্টনের প্রধান কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সভা শেষে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভায় রাজনৈতিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন উত্থাপন করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। প্রতিবেদনে ২৮ মার্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার দলীয় বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ভয়ভীতি, হামলা, গ্রেপ্তার উপেক্ষা করে সারা দেশের যেসব নেতা-কর্মীসহ যারা হরতাল সফল করেছেন তাঁদের অভিনন্দন জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হরতালে আমরা জনসমর্থন আদায়ে সমর্থ হয়েছি।
এ ছাড়াও প্রতিবেদনে আগামী দিনে আন্দোলনের এই ধারা অব্যাহত রেখে দু: শাসনের অবসান, ব্যবস্থা বদল ও নীতিনিষ্ঠ জনগণের আস্থাভাজন বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলার আহবান জানানো হয়েছে। সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, হরতালে সরকারের স্বৈরাচারী আচরণ, হামলা-হুমকি, ভাঙচুর, গ্রেপ্তারের নিন্দা জানান। পার্টির কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ ও ছাদেকুল ইসলামসহ ছাত্র নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
দেশব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি প্রসঙ্গে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুল্লাহ আল কাফি রতন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘টিসিবির গাড়ির পেছনে যেমন মানুষের লাইন দেখা যাচ্ছে তাতে গাড়ির সংখ্যা ও পণ্য সরবরাহ বৃদ্ধি না করলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা যাবে না। ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু, ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-বকেয়া-বোনাস পরিশোধ এবং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে তিন দিনব্যাপী সারা দেশে অবস্থান ও বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকেই এ কর্মসূচির লিফলেটিং ও প্রচারণা শুরু হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন জেলায় এ কর্মসূচি সফল করতে শিগগিরই জেলায় জেলায় সফরে যাবেন।’