গণসংহতি আন্দোলনের দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জোনায়েদ সাকি। দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কৃষকনেতা দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু।
আজ শনিবার রাজধানীর হাতিরপুলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও দলীয় নেতৃত্ব একসঙ্গে পালন না করার নীতিগত অবস্থান থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রুবেল আরও বলেন, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্রক্ষমতা ও সংগঠনের পৃথক্করণের নীতি বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি জানান, তিনি দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট বিভিন্ন গণসংগঠনের সমন্বয়ে গণসংহতি আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে তৃতীয় জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনের মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে রূপ নেয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে ৫৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয় এবং প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুগপৎ আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে তিনি সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জোনায়েদ সাকি।
নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য এবং বরিশাল অঞ্চলের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। ১৯৫৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া নীলু কিশোর বয়সে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেন। শ্রমিক রাজনীতির কারণে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত কারাবন্দী ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে কৃষক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দলের রাজনৈতিক পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।