রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলী (রহ.)-এর মাজারে হামলার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু ‘সুবিধাবাদী সাংবাদিক’ ও রাজনৈতিক দলের ‘ভাড়াটে বুদ্ধিজীবী’ এ ঘটনায় তাদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন বলে দাবি জামায়াতে ইসলামীর।
আজ বুধবার এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত পরিষ্কার ও দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করছি—শাহ আলীর মাজারে এই হামলার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দূরতম সম্পর্কও নেই। কিছু সুবিধাবাদী সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক দলের ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই জামায়াতের ঘাড়ে এই ঘটনার দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। এটি কেবল মিথ্যাচার নয়—এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।’
শাহ আলীর মাজারে মুখোশধারী একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়েছে মন্তব্য করে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘গত ১৪ মে দিবাগত রাতে মিরপুরের ঐতিহাসিক শাহ আলীর মাজারে মুখোশধারী একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত নিরীহ মানুষের ওপর যে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে—তা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত ও ক্রুদ্ধ করেছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দর্শনার্থীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত আক্রমণ এবং লুটপাট—এটি শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সভ্যতার বিরুদ্ধে আঘাত। আমি এই হামলার সর্বোচ্চ ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে শাহ আলীর মাজারের হামলার দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এই সদস্য। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়ে আহত প্রতিটি মানুষের জন্য আমার হৃদয় কাঁদছে। পুলিশ প্রশাসনকে আমি সরাসরি বলতে চাই—দেরি নয়, এখনই তদন্ত করুন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করুন এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করান।’
সারা দেশে মাজারকেন্দ্রিক হামলাগুলোর পেছনে আছে দখলদারি এবং অবৈধ অর্থের লোভ দাবি মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের। তিনি বলেন, ‘আসল সত্য যা কেউ বলছেন না—৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সারা দেশে মাজারকেন্দ্রিক যে হামলাগুলো হয়েছে, তার পেছনে ‘ধর্মীয় উন্মাদনা’ নয়; আছে দখলদারি এবং অবৈধ অর্থের লোভ।’