রাজধানীর মৌচাক-মালিবাগ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতদের আসামি করে মতিঝিল ও রমনা বিভাগের চার থানায় পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ৩০৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫ হাজার নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। প্রতিটি মামলার বাদী পুলিশ। এখনো পর্যন্ত এসব মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ শনিবার রাতে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ইমরান হোসেন মোল্লা।
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী অনুমতি না নিয়েই গণমিছিল শুরু করে। গণমিছিল থেকে জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধর করা হয়। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১১ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর শুক্রবার রাতে ও শনিবার রাজধানীর চার থানায় পাঁচটি মামলা করেছে পুলিশ।’
এ ছাড়া এ ঘটনায় রামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মারুফ হোসেন বাদী হয়ে জামায়াতের ৬৪ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলায় ওয়ার্ড আমিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার থানার পাঁচ মামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে জামায়াতের মিছিল থেকে হামলার ঘটনাকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গুরুত্বসহকারে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে আজ শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী পুলিশের কাছ থেকে গণমিছিলের অনুমতি নেয়নি। আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বসহকারে নিয়েছি। যেহেতু তাঁরা বিনা অনুমোদনে একটা মিছিল বের করেছে, পুলিশের ওপর হামলা করেছে। সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাসহ আরও পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা করা হবে। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। এভাবে বেআইনি কাজ করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার বিষয়ে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।’
গতকাল শুক্রবার পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গোয়েন্দা নজরদারির ব্যর্থতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘গোয়েন্দা নজরদারি ছিল না বিষয়টি এ রকম নয়। আমরা কিছু তথ্য পেয়েছিলাম। তাঁরা (জামায়াতের নেতা-কর্মীরা) বিভিন্নভাবে ছড়িয়েছে, তাঁরা বায়তুল মোকাররমের সামনে থেকে মিছিল করবে। কিন্তু তারা মালিবাগ চৌধুরীপাড়া আবুল হোটেলের সামনে থেকে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা পেয়ে মৌচাক-মালিবাগে এসে মিছিল করে।’
এদিকে গণমিছিলের সময় ‘পুলিশের ওপর হামলার’ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম বলেন, ‘গণমাধ্যমে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্যে আমরা বিস্মিত হয়েছি। জামায়াত একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বাংলাদেশে রাজনীতি করছে। প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। বরং জামায়াতের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হস্তক্ষেপ করে সংবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে।’