হোম > রাজনীতি

একটি দলের শীর্ষ নেতার অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল পক্ষপাতমূলক আচরণ: জামায়াত

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশে গত দু-তিন সপ্তাহ ধরে একটি দলের শীর্ষ নেতাকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়াকে পক্ষপাতমূলক আচরণ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াত আমিরসহ চার নেতা। বৈঠক শেষে রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তাহের।

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সারা দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতের বিষয়টি এখন দৃশ্যমান। বিশেষ করে, মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এসপি ও ডিসিদের, যাঁরা একই সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তাঁরা ইতিমধ্যে করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, দেশের প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় ও হতাশা তৈরি হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতি ভঙ্গ হলে এর দায় এড়াতে পারবে না নির্বাচন কমিশন।

তাহের অভিযোগ করেন, গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে একটি দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে সরকারের অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়ার প্রবণতা নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতির সরাসরি লঙ্ঘন।

তাহের বলেন, ‘কারও নিরাপত্তা বা প্রটোকলে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু একটি প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের প্রতিও একই ধরনের আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এটি পক্ষপাতমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।’

জামায়াতের নায়েবে আমির আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি এ ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জাতি একে পক্ষপাতমূলক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। তিনি জানান, এসব বিষয়ে তাঁরা সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন যথাযথ ভূমিকা না নিলে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জামায়াতে ইসলামী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান। তবে তাঁর আশপাশে থাকা কিছু উপদেষ্টা তাঁকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানান জামায়াতের নায়েবে আমির।

তাহের বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিলাম।’ তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে, মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের এ নেতা আরও বলেন, ‘যদি সত্যিই প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়, তাহলে এটিকে একটি উল্লেখযোগ্য ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা দেখব।’ এ কারণে প্রধান উপদেষ্টাকে আগাম ধন্যবাদ জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করলেন জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের নেতারা

নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীদের জন্য বিএনপির নির্দেশনা

নাহিদ ও নাসীরুদ্দীনকে ইসির শোকজ বিধিবহির্ভূত: এনসিপি

তারেক রহমানের গাড়িতে খাম রেখে দ্রুত পালাল মোটরসাইকেলচালক, কী ছিল তাতে

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিল এনসিপি

ইসলামী আন্দোলনের ফয়জুল করীমের আসনে প্রার্থী দেবে না জামায়াত

ইসির আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ, কিছু কর্মকর্তা নির্দিষ্ট দলের হয়ে কাজ করছেন: মির্জা ফখরুল

জনসংখ্যার অর্ধেক পেছনে রেখে এগোনো সম্ভব না: জাইমা রহমান

২৭ আসনে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করল এনসিপি

তারেক রহমানের সঙ্গে ব্রাজিল ও সুইস রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ