জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহতদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে মাসব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ধারাবাহিক লড়াই ও বীরোচিত বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদ্যাপনে ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পালন করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির যৌথভাবে এই মাসব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক এই বর্ষপূর্তি স্মরণীয় করে রাখতে গতকাল ১ জুলাই বুধবার প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শিরোনামে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির মাধ্যমে মাসব্যাপী এই আয়োজনের সূচনা করা হয়েছে। এরপর আগামী ১৫ জুলাই বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে ‘গণ-অভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে একযোগে বিশাল ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে দুই বিভাগের অন্তর্গত সকল বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, মহানগর, কলেজ, উপজেলা ও পৌর ইউনিটের নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন। একই দিন চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগ ব্যতীত দেশের অন্যান্য সকল বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও মহানগর শাখায় পৃথক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর ১৮ জুলাই শনিবার ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিশেষ কর্মসূচি এবং ২০ জুলাই সোমবার গণ-অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল অবদান নিয়ে আরেকটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আগামী ২১ জুলাই মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জুলাই-আগস্টের অবিস্মরণীয় ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনাবলির ওপর ‘প্রতীকী জুলাই’ শিরোনামে একটি বিশেষ লাইভ পারফরম্যান্স প্রদর্শিত হবে। একই দিন ক্যাম্পাসে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিগত ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের বহুল পরিচিত ছবিগুলো নিয়ে চিত্র প্রদর্শনী, কবিতা উৎসব ও পথ নাটক অনুষ্ঠিত হবে।
২২ জুলাই বুধবার জুলাই-আগস্টের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এবং দেশের সব স্তরের প্রশাসনিক ইউনিটে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
২৪ ও ২৫ জুলাই শুক্রবার ও শনিবার ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃত্বে দেশজুড়ে সকল শহীদদের কবর জিয়ারত করা হবে এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বিশেষ উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।
পরিশেষে, আগামী ৩ আগস্ট সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রদলের উদ্যোগে এক বিশাল ছাত্রসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।