ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, প্রশাসন একদিকে হেলে পড়েছে।
আজ রোববার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এমন অভিযোগ করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জুবায়ের। দলটির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নেয়।
জুবায়ের অভিযোগ করে বলেন, ‘পটুয়াখালীর বাউফল আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ চরম পক্ষপাতিত্ব করছে। বাউফলের ওসি চূড়ান্তভাবে একপেশে আচরণ করছেন। তিনি বিএনপি-ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের অফিস তল্লাশি করছেন। এই ওসি বহাল থাকলে সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই অবিলম্বে বাউফলের ওসির প্রত্যাহার দাবি করেছি।’
জুবায়ের জানান, ঢাকা-১৫ আসনে (যেখানে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন) এবং পাবনায় নিয়মিত সন্ত্রাসী হামলা ও অফিস ভাঙচুর হচ্ছে। পাবনা জেলা আমিরের ওপর হামলা এবং মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে নারী কর্মীদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ইউএনওরা এসব দেখেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও হেনস্তার অভিযোগ এনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বাউফল, পাবনা, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নারী ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে লক্ষাধিক বোরকা বানানো হচ্ছে—এমন প্রচারণাকে ‘কাল্পনিক নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেন অ্যাডভোকেট জুবায়ের। তিনি বলেন, নারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি করতে এবং তাঁদের নির্বাচনবিমুখ করতেই এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়ানো হচ্ছে। যেখানে অর্ধেক ভোটার নারী, সেখানে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কমিশনের বড় দায়িত্ব।
আজ ১১টি নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জুবায়ের বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী নারীদের সর্বোচ্চ সম্মানের চোখে দেখে। আমিরে জামায়াতের টুইটার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল। আমরা সেটি উদ্ধার করেছি এবং তদন্তে দেখা গেছে, বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তার ই-মেইল থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে এটি করা হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে। এটি মূলত জামায়াতের নারী সমর্থনের জোয়ার দেখে একটি মহলের চক্রান্ত।’
বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে কূটনৈতিকদের জানানো হচ্ছে জানিয়ে জুবায়ের আরও বলেন, ‘সিইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় নেতাদের চলাচলের জন্য গাড়ি ও পাস ইস্যু এবং সাংবাদিকদের নির্ভয়ে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছি।’