জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এবং মানুষ হত্যা করে বন্ধুত্ব হয় না। মানুষ একদিন ওই বেড়া উপড়ে ফেলবে।’
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে এনসিপি-সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা: বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে নাহিদ এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবার নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের (এনইউএ) আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিন, হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, চিন্তক ও গবেষক মুসা আল হাফিজ, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও দলের যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন প্রমুখ।
সভায় ওলামা অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—শাপলা চত্বরের সেই রাতের প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এবং নিখোঁজদের সন্ধানে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন; সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মাঠপর্যায়ে সম্পৃক্ত পুলিশ ও র্যাবের কর্মকর্তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা; শহীদ পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আহত যাঁরা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাঁদের সুচিকিৎসা ও রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা; আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে গত এক যুগে দায়ের করা সব মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।