জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, তাঁর দলকে ভোটে কায়দা করে হারানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘(ভোটে হারানোর) কায়দাগুলো চিনে নিয়েছি, আগামীতে সবাই মিলে সকল ঘাটে শক্ত পাহারা দেব।’
রাজধানীর মিরপুরে মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আজ বুধবার এক ইফতার মাহফিলে এ কথা বলেন জামায়াত আমির।
‘স্বাধীনতার ৫৪ বছরে মানুষ অনেক দল ও আদর্শ দেখেছে কিন্তু ইসলামী আদর্শের সরকার গঠন হতে মানুষ দেখেনি’ মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এবার যুবসমাজসহ সাধারণ মানুষের বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি পরিবর্তনের। জনগণ সেই পরিবর্তনের পক্ষেই ভোট দিয়েছে। তবে আমরা সরকার গঠন করলাম না কেন? জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে তার প্রমাণ কি?’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশের পক্ষে “হ্যাঁ” ভোট দিতে বলেছিলাম। ৬৯ ভাগ মানুষ সেই “হ্যাঁ” ভোট দিয়েছে। যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা বলেছিলেন “না” ভোট দিতে। এটাই প্রমাণ করে যে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভালোবাসা ও ভোট পাননি। বিভিন্ন কায়দায় সেই ভোট নেওয়া হয়েছে। আমরা এবার সেই কায়দাগুলো চিনে নিয়েছি। আগামীতে ইনশা আল্লাহ সবাই মিলে সকল ঘাটে শক্ত পাহারা দেব। আমাদের অধিকার আর কাউকে কেড়ে নিতে দেব না।’
সরকারের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, ‘মানুষের সবচেয়ে বড় অধিকার ভোটের অধিকার, এটা হরণ করা হয়েছে। আগামীতে এটা যেন হরণ করা না হয়। তারা যদি এটা হরণের পথ থেকে সরে আসেন, আমরা তাদের আরেকবার অভিনন্দন জানাব। জনগণের ভোটে তারা যদি ১০০ ভাগ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়ে যান, তখনো তাদেরকে আমরা অভিনন্দন জানাব। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং করে, কায়দা করে, ইলেকট্রিসিটি বন্ধ করে দিয়ে- নয়-ছয় করা হয়েছে। আমরা এগুলো আর দেখতে চাই না।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যা বলেছিলাম, তা এখন সরকারি দলও পালন করছে। আমরা বলেছিলাম, আমাদের এমপি-মন্ত্রীরা প্লট নেবে না, বিনা ট্যাক্সের গাড়ি চড়বে না- সরকারও একই ঘোষণা দিয়েছে, তাদের অভিনন্দন। আমরা বলেছিলাম, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের লাশ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দেশে আনা হবে। সরকার এটিও গ্রহণ করেছে, তাদের অভিনন্দন।’