জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ‘মব সংস্কৃতি’ ও অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ তুলেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সব গণতান্ত্রিক ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশহীদ রফিক ভবনের নিচে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন।
মেহেদী হাসান হিমেল জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। ছাত্রলীগ (নিষিদ্ধঘোষিত) ছাড়া সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে ছাত্রদল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। সব গণতান্ত্রিক ছাত্রসংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় ছাত্রদল। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে একটি পক্ষ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে নিজেদের স্বার্থে জকসুর ব্যানার ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
হিমেল বলেন, ছাত্রশিবির ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন) চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের উপস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীরাই সেটি প্রতিহত করেছেন। তবে ছাত্রদলের কোনো নেতা-কর্মীর বিশৃঙ্খলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বলেন, আগের প্রশাসন ও অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দীর্ঘদিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে কোনো অর্থ আসেনি। পরে বর্তমান প্রশাসন, ইউজিসি চেয়ারম্যান ও সরকারের সহযোগিতায় সেই বরাদ্দ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন অভিযোগ করেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ছাত্রদল শান্তিপূর্ণভাবে রাজনীতি করলেও ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সহাবস্থানের পরিবেশ নষ্ট করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘাত সৃষ্টি করছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, সুমন সরদার, মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, রবিউল আওয়ালসহ অন্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর ও আবাসন-সংকট দূরীকরণসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের সময় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জকসু ভিপি, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রশিবির সভাপতিসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আরও পড়ুন—