হোম > রাজনীতি

শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে: গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট

ঢাবি প্রতিনিধি

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষাঙ্গনকে এখনো রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। সংগঠনটির দাবি, ক্যাম্পাস দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও সহিংসতার রাজনীতি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তাঁরা।

আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতারা বলেন, গতকাল ও আজ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, এসব ঘটনা গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সংঘর্ষ ও সহিংসতার কারণে ছাত্র-শিক্ষকেরা অনিরাপদ বোধ করছেন এবং স্বাভাবিক ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও ভিন্নমত দমনের বিরুদ্ধে দেশের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা দখলদার রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিল।

নেতাদের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের চক্রান্ত ও মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে সেই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির ছাত্রলীগের দখলদারিত্বের রাজনীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্পাস দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা প্রমাণ করে যে, শিক্ষাঙ্গনকে এখনো রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই আধিপত্যের বিরুদ্ধে যাঁরা কথা বলছেন, তাঁরাও হামলার শিকার হচ্ছেন।

নেতারা অভিযোগ করেন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীব হামলার শিকার হয়েছেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় সরকার, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না বলেও বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতাদের মতে, সংশ্লিষ্টদের নীরবতা কার্যত ক্যাম্পাসে দখলদারিত্ব ও সহিংসতার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তাঁরা অবিলম্বে সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সহিংসতা বন্ধ, সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতির বিপরীতে শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান জানান গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতারা।

স্বাধীনতাবিরোধীরা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীদের মতো বেয়াদব সৃষ্টি করেছে: পানিসম্পদমন্ত্রী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা: ছাত্র ইউনিয়ন

বিএনপির ওপর ফ্যাসিবাদী শাসনের ছায়া ভর করেছে—বিভিন্ন ক্যাম্পাসে হামলা প্রসঙ্গে জামায়াত

একটি মহলের কারণে শহীদ-আহতদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির

ক্যাম্পাসগুলোকে আবারও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

সহাবস্থান চাই, মব নয়—সংবাদ সম্মেলনে জবি ছাত্রদল

ফ্যাসিবাদের পান্ডাদের মতো ছাত্রদলকে লেলিয়ে দিচ্ছেন: গোলাম পরওয়ার

গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগপর্যন্ত জুলাই গণ-আন্দোলন অসমাপ্ত: সিপিবি

যাদের কারণে আজ আপনি সরকার, তাদের গায়ে হাত দেবেন না: জামায়াত আমির

৫ ও ৬ আগস্টের কর্মসূচি ঘোষণা করল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট